ওকল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক ৩৯ বছর বয়সী চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়ান কুগলার সাম্প্রতিক অস্কার অনুষ্ঠানে তার নতুন ছবি ‘সিনার্স’ দিয়ে ইতিহাস রচনা করেছেন। ছবিটি মোট ১৬টি বিভাগে নামাঙ্কিত হয়ে সর্বোচ্চ নোমিনেশন সংখ্যা অর্জন করেছে, যা পূর্বে ১৯৫০ সালের ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ এবং পরে ‘টাইটানিক’ ও ‘লা লা ল্যান্ড’ সমান ১৪টি নোমিনেশন ভাঙেছে।
কুগলার গত দশকে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’, ‘ক্রেসেড’ এবং ‘ওয়ান দ্য সোল্ডিয়ার’ সহ বেশ কয়েকটি বক্স অফিস হিট পরিচালনা করেছেন। তার সর্বশেষ কাজ ‘সিনার্স’ একটি সাহসী জেনার মিশ্রণ, যা এপ্রিল মাসে মুক্তি পায় এবং দ্রুত দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ছবির সাফল্য কেবল বাণিজ্যিক দিকেই নয়, শিল্পের স্বীকৃতিতেও নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
অস্কার নোমিনেশন রেকর্ডের পর কুগলার ওকল্যান্ডের উত্তর অংশ ও বার্কলির সীমানায় একটি ক্যাফে গৃহে কাজের শিকড় গড়ে তুলছেন। জানুয়ারি মাসের এক শীতল বিকেলে তিনি সেখানে বসে, নতুন ‘দ্য এক্স‑ফাইলস’ রিবুট সিরিজের স্ক্রিপ্টে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেন। কাজের মাঝেও তিনি খাবার নিয়ে তাড়াহুড়ো করেন না; দ্রুতই একটি বেগেল, ক্রিম চিজ ও লক্সের স্যান্ডউইচ গিলে ফেলেন এবং বললেন, “এখন আমি গভীরে আছি, আজকের দিনটা ভালো।”
কুগলার স্থানীয় ক্যাফে সংস্কৃতিরও বড় ভক্ত। তিনি নিকটস্থ কলেজ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ‘এন্ট নরমাল’ ও ‘হাইওয়্যার’ ক্যাফেগুলোকে অবশ্যই পরিদর্শন করার স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি “কফি ছাড়া এখানে কিছুই হারাতে পারবে না” বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এই ছোটখাটো জায়গাগুলো সৃজনশীল কাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
কফি ছাড়াও তিনি ওকল্যান্ডের কিছু সাংস্কৃতিক দিকের সুপারিশ দেন। ‘মার্কাস বুকস’, একটি কালো মালিকানাধীন বইয়ের দোকান, এবং গ্র্যান্ড লেক থিয়েটার, যেখানে তিনি শৈশবে প্রথম সিনেমা দেখেছেন, তার তালিকায় রয়েছে। তিনি শৈশবের স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, ছয় বছর বয়সে তার বাবা সঙ্গে ‘ম্যালকম এক্স’ সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা তার চলচ্চিত্রপ্রেমের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।
কুগলার সবসময়ই স্থানীয় রুটিনকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি ওকল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, এবং এখানে তার সৃজনশীল যাত্রা গড়ে তোলার সময় কোনো প্রশ্নই অপ্রশ্নিত রাখেন না। “কফি পছন্দ করো?” তিনি প্রায়শই নতুন পরিচিতদের জিজ্ঞাসা করেন, এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে তার প্রিয় জায়গাগুলো দেখিয়ে দেন।
‘সিনার্স’ ছবির অস্কার নোমিনেশন রেকর্ড ভাঙা কেবল কুগলারের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আফ্রিকান‑আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি মাইলফলক। দীর্ঘদিন ধরে অস্কার নোমিনেশনে সাদা-ধরনের চলচ্চিত্রের আধিপত্য ছিল, আর এখন ১৬টি বিভাগে নামাঙ্কিত হওয়া একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অস্কার জয়ের পর কুগলার স্বীকার করেন, তার ক্যারিয়ারে অনেক কঠিন দিনও ছিল। তবে তিনি বলেন, “আজকের দিনটা ভালো, অনেক দিনই এমন ছিল না।” এই কথাগুলো তার কাজের প্রতি অবিচল আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
‘সিনার্স’ ছবির সাফল্য ও কুগলারের অস্কার রেকর্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আগামী মাসে ‘দ্য এক্স‑ফাইলস’ রিবুটের জন্য স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সিরিজের পুনর্নির্মাণে তিনি তার স্বতন্ত্র শৈলী ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন, যা ভক্তদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
কুগলারের গল্প থেকে দেখা যায়, স্থানীয় রুটিন ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির মধ্যে সমন্বয় সম্ভব। তিনি ওকল্যান্ডের ছোট ক্যাফে, বইয়ের দোকান ও থিয়েটারকে তার সৃজনশীল প্রেরণার অংশ করে তুলেছেন, আর একই সাথে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার কাজকে উঁচুতে তুলে ধরেছেন। তার সুপারিশকৃত স্থানগুলোতে গিয়ে পাঠকরা কেবল চমৎকার কফি ও সংস্কৃতি উপভোগই করবেন না, বরং চলচ্চিত্রের পেছনের সৃজনশীল মনোভাবের এক ঝলকও পেতে পারবেন।
রায়ান কুগলার এখনো তার বয়সের তুলনায় অনেক বেশি স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। অস্কার নোমিনেশন রেকর্ড ভাঙা, ‘সিনার্স’ ছবির বক্স অফিস সাফল্য, এবং নতুন ‘দ্য এক্স‑ফাইলস’ সিরিজের প্রস্তুতি—all একসাথে তার ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করছে। স্থানীয় রুটিনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, সৃজনশীলতা ও সাফল্য একসাথে চলতে পারে, যদি তা হৃদয় ও মাটির সঙ্গে যুক্ত থাকে।



