22 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রথমবার কারাগারে বন্দীরা ভোট দিলেন, ৫,০৬৭ ভোটার অংশগ্রহণ

প্রথমবার কারাগারে বন্দীরা ভোট দিলেন, ৫,০৬৭ ভোটার অংশগ্রহণ

বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে, কারাগারে থাকা বন্দীরা প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটদান সম্পন্ন করেছে। মোট ৫,০৬৭ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। ভোটদান প্রক্রিয়া গতকাল শেষ হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় জেলায় বর্তমানে প্রায় ৮৬,০০০ বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে ৭৫টি কারাগার অন্তর্ভুক্ত। এই সংখ্যার মধ্যে ৫,৯৯০ জন পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ৩৮০টি আবেদন ফরমে ত্রুটির কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়, ফলে ভোটের যোগ্য মোট সংখ্যা ৫,৬১০ হয়।

নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৫,০৬৭ জন শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যালেট পাঠিয়ে ভোট দিয়েছেন, আর ৫৪৩ জন কোনোভাবে ভোট না দিয়ে রয়ে গেছেন। ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের হার প্রায় ৯০ শতাংশ, যা কারাগারভিত্তিক ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।

নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৬০ জন উচ্চপ্রোফাইল বন্দি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; এদের মধ্যে ৩৯ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন প্রাক্তন সচিব, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছিলেন। এই গোষ্ঠীর মধ্যে ৫৬ জন ভোট দিয়েছেন, যা তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবকে তুলে ধরে।

প্রাক্তন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ এবং দীপু মনি এই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে, দীপু মনি নিবন্ধন সত্ত্বেও ভোট দেননি, যা নির্বাচনী অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে।

ভোটদান প্রক্রিয়া পাঁচটি ধারাবাহিক দিনে ভাগ করা হয়েছিল। ৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে ১,৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১,১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ জন, ৭ ফেব্রুয়ারি ৪৭১ জন, ৮ ফেব্রুয়ারি ২৯৫ জন এবং ৯ ফেব্রুয়ারি ২৩৪ জন বন্দি তাদের ব্যালেট জমা দিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতা ভোটারদের সময়সূচি অনুযায়ী ভোটদান সহজ করেছে।

মোট ১৯৮ জন নারী বন্দি ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন, যা কারাগারভিত্তিক ভোটারদের লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধির একটি সূচক।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে, এবং কারাগার কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পরিচালিত হয়। নিবন্ধন তিন সপ্তাহ ধরে চলেছিল এবং ৫ জানুয়ারি শেষ হয়, যখন কারাগারে মোট ৮৬,০০০ বন্দি ছিল।

কয়েকজন বন্দি বেলায় মুক্তি পেতে পারে বলে ভয় পেয়ে নিবন্ধন থেকে বিরত ছিলেন, আর দীর্ঘমেয়াদী বন্দিদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের অভাবের কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই কারণগুলোই নিবন্ধনের সীমিত অংশগ্রহণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে বিবেচনা করা হলেও, নিবন্ধন পর্যায়ে অংশগ্রহণের হার প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তবে, পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে কারাগারভিত্তিক ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে, এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা এবং বিস্তৃতি নির্বাচনী অংশগ্রহণের হার বাড়াতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী বন্দি ও উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্য। নির্বাচনী কমিশন ও কারাগার প্রশাসন একসাথে কাজ করে, ভোটার তালিকা আপডেট, পরিচয়পত্র সরবরাহ এবং ভোটার সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে, যাতে পরবর্তী নির্বাচনে আরও বেশি বন্দি তাদের নাগরিক অধিকার ব্যবহার করতে পারেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments