যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা ও বাজার সংস্থা (CMA) গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে যে, অ্যাপল ও গুগলের অ্যাপ স্টোরে নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ইউরোপের কঠোর নিয়মের তুলনায় বেশি নমনীয় হবে। সরকার ডিজিটাল বাজারের নীতিমালা প্রয়োগে ‘প্র্যাকটিক্যাল’ পন্থা গ্রহণ করে, যেখানে উভয় কোম্পানির কাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হবে।
গত বছর সিএমএ অ্যাপল ও গুগলকে মোবাইল প্ল্যাটফর্মের বাজারে ‘দুইটি প্রধান খেলোয়াড়’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা তাদেরকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের মতো বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপের বদলে, যুক্তরাজ্য এখন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করবে।
অ্যাপল ও গুগল সিএমএর সঙ্গে কাজ করার জন্য একাধিক ক্ষেত্রের ওপর সম্মতি জানিয়েছে। এতে অ্যাপ রিভিউ প্রক্রিয়া, অ্যাপের র্যাঙ্কিং পদ্ধতি, ব্যবহারকারীর ডেটা ব্যবহার এবং ইন্টার‑অপারেবিলিটি প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত। মূল লক্ষ্য হল ডেভেলপারদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে যখন তারা অ্যাপল ও গুগলের নিজস্ব অ্যাপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে।
সিএমএর নতুন নিয়মগুলো মূলত নির্দেশমূলক এবং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। পূর্বে সিএমএর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এই পদ্ধতি প্রয়োগে বাধ্যতামূলক শর্তের চেয়ে বেশি নমনীয়তা থাকবে, ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত যোগ করা সম্ভব হবে।
ইউরোপের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের তুলনায় যুক্তরাজ্যের পদ্ধতি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। ইউরোপীয় নিয়মাবলী অ্যাপলকে iOS-এ তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ইনস্টলেশন অনুমোদন, ডেটা শেয়ারিং এবং ফি হ্রাসের মতো বাধ্যতামূলক পরিবর্তন করতে বলেছে। যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা এখনো এমন বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করে না।
তবে সিএমএ উল্লেখ করেছে যে, যদি অ্যাপল বা গুগল প্রতিশ্রুতি মেনে না চলে, তবে তারা অতিরিক্ত শর্ত আরোপের সম্ভাবনা রাখে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যাপ অনুমোদনের সংখ্যা, প্রত্যাখ্যানের হার, রিভিউ সময় এবং ডেভেলপারদের অভিযোগের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করবে।
এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সিএমএ নির্ধারণ করবে যে, কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাধ্যতামূলক শর্ত প্রয়োজন কিনা। উদাহরণস্বরূপ, যদি দেখা যায় অ্যাপল ইন্টার‑অপারেবিলিটি অনুরোধগুলো অযৌক্তিকভাবে প্রত্যাখ্যান করছে, তবে নির্দিষ্ট ইন্টার‑অপারেবিলিটি শর্ত আরোপ করা হতে পারে।
গুগল তার অফিসিয়াল ব্লগে উল্লেখ করেছে যে, সিএমএর উদ্বেগ সমাধানে সহযোগিতামূলক পদ্ধতি গ্রহণে তারা স্বাগত জানায়। কোম্পানি দাবি করে যে, এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিশ্রুতি উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী হবে এবং বাজারে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
অ্যাপলও একই রকম ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে, আজ ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং ডেভেলপারদের জন্য ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
এই চুক্তি যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল বাজার নীতিমালার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও এখনো বাধ্যতামূলক শর্তের অভাব রয়েছে, তবু সিএমএর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়মের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ডেভেলপার সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিশ্রুতি অ্যাপ স্টোরে প্রবেশের বাধা হ্রাস এবং ন্যায়সঙ্গত র্যাঙ্কিং পদ্ধতি নিশ্চিত করার সম্ভাবনা রাখে। তবে তারা এখনও সিএমএর পর্যবেক্ষণ ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল থাকবে, যাতে কোনো একতরফা সুবিধা না হয়।
সিএমএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিয়মিত পর্যালোচনা ও ডেটা বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে, এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত শর্ত প্রণয়ন করবে। এই পদ্ধতি যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্য অ্যাপল ও গুগলের অ্যাপ স্টোরে হালকা স্পর্শের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের মাধ্যমে ডেভেলপারদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রাখতে চায়, তবে বাধ্যতামূলক শর্তের পরিবর্তে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করবে। ভবিষ্যতে সিএমএর পর্যবেক্ষণ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নিয়মের কঠোরতা বাড়তে পারে।



