22 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশে সরকারী পদক্ষেপ

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশে সরকারী পদক্ষেপ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যান্য উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় উপদেষ্টাদের পাশাপাশি তাদের স্বামী‑স্ত্রীর সম্পদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পদক্ষেপটি ১ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতা, যেখানে ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অর্জিত সম্পদের হিসাব প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১০ ফেব্রুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, প্রজ্ঞাপনের অধীনে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের সম্পদ তালিকা এখন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালিকায় সম্পদের প্রকৃতি, পরিমাণ এবং স্বামী‑স্ত্রীর অংশীদারিত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

প্রকাশিত বিবরণী ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উপদেষ্টাদের অর্জিত সম্পদের তথ্য সমন্বিত। এতে ব্যাংক জমা, শেয়ার, সম্পত্তি, গাড়ি, এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি স্বামী‑স্ত্রীর স্বতন্ত্র সম্পদও আলাদা করে দেখানো হয়েছে। এই পদ্ধতি পূর্বের প্রকাশের তুলনায় অধিক বিস্তৃত, যা সম্পদ সংক্রান্ত কোনো লুকানো তথ্যের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই প্রকাশের পেছনে সরকারী স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি বিরোধী নীতি জোরদার করার ইচ্ছা উল্লেখ করে। বিভাগে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টাদের সম্পদ প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক মানদণ্ড উন্নত করা লক্ষ্য। এছাড়া, ভবিষ্যতে সকল সরকারি কর্মকর্তার জন্য একই ধরনের বাধ্যতামূলক প্রকাশনা প্রণয়ন করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুততম সময়ে উপদেষ্টাদের সম্পদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার ভাষণে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এবং এই পদক্ষেপটি সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা না থাকলে কোনো নীতি কার্যকর করা সম্ভব নয়, তাই সম্পদ প্রকাশকে বাধ্যতামূলক করা জরুরি।

বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো এই উদ্যোগকে দু’ধরনের দৃষ্টিতে দেখেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারকে স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য প্রশংসা করে, তবে তারা দাবি করে যে সম্পদ প্রকাশের পর্যালোচনা ও যাচাই প্রক্রিয়া যথেষ্ট কঠোর নয়। অন্যদিকে, সমর্থকরা বলেন, এই পদক্ষেপটি দুর্নীতি মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি তৈরি করবে।

প্রকাশিত তালিকাটি সরকারি ওয়েবসাইটে লিংক প্রদান করে সরাসরি দেখা যাবে। লিংকটি সকল নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত, যাতে তারা নিজেরাই তথ্য যাচাই করতে পারে। সরকার এই তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে, যাতে জনমত গঠন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

এই সম্পদ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার উপদেষ্টাদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় এবং একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করতে চায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশনা নিয়মিতভাবে করা হলে, দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ১০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে, যা স্বামী‑স্ত্রীর সম্পদসহ সম্পূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে। এই পদক্ষেপটি সরকারী স্বচ্ছতা বাড়ানোর এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে সকল সরকারি কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।

৭৯/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastreamইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments