বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি স্বীকার করেছে এবং এটির মাধ্যমে আমেরিকান বাজারে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে প্রায় নয় মাসের তীব্র আলোচনার পর সম্পন্ন হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের উপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশেষভাবে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ওপর কোনো শুল্ক আর আরোপিত হবে না।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই শুল্কমুক্ত ধারা বাংলাদেশের মার্কিন বাজারে প্রবেশ সহজ করবে, তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল উপকরণের মূল্যায়ন ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উচ্চমানের এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল; তাই স্থানীয় স্পিনাররা যদি প্রতিযোগিতামূলক দামে সুতা সরবরাহ করতে পারে, তবে রপ্তানি সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তবে, এখন পর্যন্ত চুক্তির সম্পূর্ণ শর্তাবলী সম্পর্কে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যকে সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়া যায়নি।
সম্পূর্ণ নথি পাওয়া মাত্রই সংস্থা তার সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক আয়োজন করবে এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) এর সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে আলোচনা করবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শুল্ক হ্রাস এবং শুল্কমুক্ত উপকরণ ব্যবহারের সুযোগের ফলে আগামী ত্রৈমাসিকে রপ্তানি পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় স্থানীয় উৎপাদনকারীদের গুণমান ও খরচ নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যায়।
চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা, সঠিক ডকুমেন্টেশন এবং মানদণ্ডের অনুসরণ অপরিহার্য বলে সংস্থা জোর দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য এই চুক্তিকে দেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে এবং এর সুষ্ঠু কার্যকরীতা নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশা করছে।



