মদরাস হাই কোর্টে প্রযোজক সংস্থা KVN প্রোডাকশনস তাদের পিটিশন প্রত্যাহার করেছে, ফলে থালাপতি বিজয়ের স্টারার “জানা নায়গান”-এর সার্টিফিকেশন বিষয়টি সিএবিএফসি (সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন) এর পুনর্বিবেচনা কমিটির হাতে ফিরে এসেছে। এই পদক্ষেপটি বিচারক পি.টি. আশার অনুমোদনে সম্পন্ন হয়েছে, যিনি পিটিশন প্রত্যাহারের অনুমতি প্রদান করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনা কমিটি এখন চলচ্চিত্রটি পুনরায় পর্যালোচনা করবে এবং সার্টিফিকেশন ক্যাটেগরি নির্ধারণ করবে। সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে কোনো বয়স সীমা না থাকা “U” সার্টিফিকেট, অল্প বয়সী দর্শকদের জন্য “U/A” অথবা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য “A” সার্টিফিকেট।
এই মামলার পূর্ববর্তী পর্যায়ে একক বিচারক প্যানেল হাই কোর্টের একটি আদেশে সিএবিএফসিকে চলচ্চিত্রের পরীক্ষামূলক কমিটির সুপারিশ অনুসারে সার্টিফিকেশন প্রদান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে সিএবিএফসি এই আদেশের বিরোধিতা করে এবং বিষয়টি আদালতে আপিল করে।
বিভাগীয় বেঞ্চ, যার প্রধান বিচারক ছিলেন চিফ জাস্টিস মান্দ্রা মোহন শ্রীবস্তব এবং সহ বিচারক আরুল মুরগন, একক বিচারকের আদেশকে বাতিল করে। বেঞ্চের রায়ে বলা হয়েছিল যে, আদালত মাঝারি পর্যায়ে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু সংক্রান্ত আপত্তিগুলি পূর্বে বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেছে। ফলে সিএবিএফসির আপিল স্বীকার করে পূর্বের আদেশকে রদ করে এবং বিষয়টি পুনরায় একক বিচারকের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
বেঞ্চের নির্দেশনা অনুসরণ করে একক বিচারকের কাছে মামলাটি ফিরে এলে, প্রযোজকরা আর লিটিগেশন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি এবং পিটিশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবে আদালতের হস্তক্ষেপের পরেও বিষয়টি এখন সিএবিএফসির পুনর্বিবেচনা কমিটির পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
“জানা নায়গান” চলচ্চিত্রটি থালাপতি বিজয়ের শেষ বড় স্ক্রিন প্রকল্প হিসেবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ তিনি শীঘ্রই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি মূলত পঙাল উৎসবের সময়, ৯ জানুয়ারি, মুক্তি পেতে নির্ধারিত ছিল।
প্রযোজক KVN প্রোডাকশনস আদালতে দাবি করে যে, তারা সিএবিএফসির প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো মেনে চলার পরেও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিলম্বিত হয়েছে। তারা উল্লেখ করে যে, চলচ্চিত্রটি ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সিএবিএফসির কাছে সার্টিফিকেশনের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল।
সেই সময়ে পরীক্ষামূলক কমিটি চলচ্চিত্রটি পর্যালোচনা করে এবং কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করে, যা প্রযোজকরা গ্রহণ করে। তবে সংশোধনী গ্রহণের পরেও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ধীরগতিতে চলতে থাকে, যা প্রযোজকদের বিরক্তি বাড়িয়ে দেয়।
এখন সিএবিএফসির পুনর্বিবেচনা কমিটি চলচ্চিত্রের চূড়ান্ত রেটিং নির্ধারণের জন্য কাজ করবে। এই রেটিং নির্ধারণের ফলাফল সরাসরি মুক্তির তারিখ ও প্রচার পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে। যদি কমিটি “U” বা “U/A” সার্টিফিকেট প্রদান করে, তবে পঙাল সময়ের মুক্তি সম্ভব হতে পারে; অন্যদিকে “A” সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে মুক্তি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
চলচ্চিত্রের ভক্ত ও শিল্পের সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে। সিএবিএফসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, প্রযোজকরা সম্ভবত মুক্তির সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারেন অথবা নতুন তারিখ নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও সামাজিক প্রভাবের দিক থেকে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষ করে বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হওয়ার পূর্বে।
পাঠকদের জন্য পরামর্শ: চলচ্চিত্রের রিলিজ সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্যের জন্য অফিসিয়াল সূত্র ও সিএবিএফসির ঘোষণার দিকে নজর রাখুন। পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বিবেচনা করে, টিকিট বুকিং বা সিনেমা হলের পরিকল্পনা করার আগে নিশ্চিত করুন যে সার্টিফিকেশন রেটিং ও মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে।



