বাংলাদেশের শীর্ষ শুটার কামরুন্নাহার কোলি, বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন (BSSF) কর্তৃক এক বছরের সাসপেনশন আরোপের সিদ্ধান্তের পর তা অস্বীকার করে মন্তব্য করেছেন। ফেডারেশন ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর কোলির বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করেছে। কোলি বলেন, তিনি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি এবং এই পদক্ষেপ তার পূর্বে করা অভিযোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
BSSF সোমবার প্রকাশিত চিঠিতে কোলির বিরুদ্ধে সাতটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জানায়, ২৫ জানুয়ারি ফেডারেশনের অফিসে একটি ঘটনা ঘটেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কোলি সাধারণ সম্পাদক, নির্বাহী কমিটির সদস্য, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রতি ‘অত্যন্ত অশ্লীল, আপত্তিকর, হুমকিমূলক ও আক্রমণাত্মক’ আচরণ প্রদর্শন করেন, যা现场 উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তার নজরে ঘটেছিল। ফেডারেশন এই ঘটনার ফলে শৃঙ্খলা ও সংস্থার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করে, সংবিধানের ধারা ১৬.২০ ও ১৬.২১ অনুযায়ী এক বছরের সাসপেনশন আরোপ করেছে।
কোলি এই বর্ণনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে বলেন, চিঠিতে উল্লেখিত ‘অশ্লীল ও হুমকিমূলক’ আচরণ তার থেকে কখনো ঘটেনি। তিনি জানান, তার উপর চাপ আরোপের চেষ্টা করা হয়েছিল কিছু প্রাক্তন শুটারদের দ্বারা, যাতে তার অস্থায়ী সাসপেনশন বাতিল করা যায়। কোলি বলেন, তিনি ঘটনাস্থল থেকে অনুতাপসহ বেরিয়ে গেছেন, তবে তার কোনো দোষ প্রমাণিত হয়নি।
কোলির মতে, এই শাস্তি তার পূর্বে BSSF-এর যৌথ সচিব জিএম হায়দার সাজাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ অভিযোগের তদন্তে সাজাদকে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের মাধ্যমে সাসপেনশন করা হয়েছিল। কোলি বিশ্বাস করেন, ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত তার ওপর গড়া রাগের ফল, যা তার পূর্বের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
কোলির অস্থায়ী সাসপেনশন জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে আরম্ভ হয়েছিল, যখন তাকে জাতীয় দল প্রশিক্ষণ শিবিরের কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থগিত করা হয়। সেই সময় থেকে তিনি কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অস্থায়ী সাসপেনশনের সময় ফেডারেশন একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে তদন্ত চালায়, তবে কোলি দাবি করেন, সেই কমিটি তার বিরুদ্ধে পূর্বধারণা নিয়ে কাজ করেছে।
কোটি সাসপেনশন নিয়ে তার মন্তব্যে তিনি বলেন, “এই অস্থায়ী কমিটি থেকে আমি কখনোই কোনো ইতিবাচক কিছু আশা করিনি এবং ভবিষ্যতে আর কিছু আশা করছি না।” তিনি ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করে, তার বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তি ন্যায়সঙ্গত নয় বলে জোর দেন।
বর্তমানে BSSF-র এক বছরের সাসপেনশন কার্যকর হয়েছে এবং কোলি শুটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফেডারেশন উল্লেখ করেছে, শাস্তি শেষ হওয়ার পরই কোলির পুনরায় যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য একটি পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া চালু করা হবে। তবে কোলি ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং তার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবেন।
শুটিং ক্রীড়া সম্প্রদায়ে এই বিতর্কের ফলে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও খেলোয়াড়ের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে BSSF কীভাবে এই ধরনের বিরোধ সমাধান করবে এবং কোলির মত শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের পুনরায় মাঠে ফিরিয়ে আনবে, তা দেশের শুটিং খাতের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



