FIFPro এশিয়া-ওশেনিয়া বিভাগ মঙ্গলবার একটি ভার্চুয়াল প্রেসব্রিফিংয়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) কাছে ২০২৬ সালের AFC নারী এশিয়ান কাপের জন্য সমান পারিশ্রমিক ও উন্নত পেশাদার মানের দাবি জানায়। এই টুর্নামেন্টটি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এশিয়ার নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত। FIFPro এর এই আহ্বানটি টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও বর্তমান সমস্যার উপর ভিত্তি করে গঠিত।
FIFPro এর এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের একটি গবেষণাপত্র, শিরোনাম “Opportunities of the AFC Women’s Asian Cup 2026”, অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টটি সর্বোচ্চ ৮২.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে। এটি এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সবচেয়ে মূল্যবান নারী এশিয়ান কাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে আয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও, এশিয়ার অনেক নারী ফুটবলার এখনও অপর্যাপ্ত বেতন, সীমিত চিকিৎসা সেবা এবং অপর্যাপ্ত স্টাফিং ও সুবিধার মুখোমুখি।
প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জরিপ ও স্বাধীন বাণিজ্যিক মডেলিং ব্যবহার করে এশিয়ার নারী ফুটবলের পেশাদার মানকে বৈশ্বিক মানের তুলনায় নিম্ন স্তরে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের AFC নারী এশিয়ান কাপের সময়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৭ শতাংশ খেলোয়াড়ই বেতন ও পুরস্কার অর্থে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে। তদুপরি, ৩৬ শতাংশ খেলোয়াড়ের পূর্ণাঙ্গ টুর্নামেন্ট পূর্ববর্তী মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়নি।
এই উদ্বেগগুলো ২০২৩ সালের FIFA নারী বিশ্বকাপেও পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যেখানে অনেক খেলোয়াড়ই কম আয় ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। উভয় টুর্নামেন্টে দেখা যায় যে আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা না থাকলে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ও ক্যারিয়ার উভয়ই প্রভাবিত হয়। FIFPro এই তথ্যগুলোকে ভিত্তি করে এশিয়ার নারী ফুটবলে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
পুরস্কার অর্থের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে। ২০২২ সালের AFC নারী এশিয়ান কাপের মোট পুরস্কার অর্থ মাত্র ১.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা অন্যান্য কনফেডারেশনের সমমানের টুর্নামেন্টের তুলনায় কম। তাছাড়া, পুরস্কার শুধুমাত্র শীর্ষ চারটি দলকে প্রদান করা হয়, ফলে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী দলই আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে।
FIFPro এর এশিয়া-ওশেনিয়া সেক্রেটারি জেনারেল শোকো ত্সুজি এই পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টটি ঐতিহাসিক বৈষম্য দূর করার এবং নারী খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন ও সমর্থনের নতুন মানদণ্ড স্থাপনের একটি অনন্য সুযোগ। তিনি উল্লেখ করেন, খেলোয়াড়দের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো “সাশ্রয়ী এবং রূপান্তরমূলক” এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য AFC এর সঙ্গে সত্যিকারের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে বেতন কাঠামোর পুনর্গঠন, পুরস্কার অর্থের সমতা, পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল সাপোর্ট এবং মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত। ত্সুজি জোর দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপগুলো শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াবে না, বরং এশিয়ার নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াবে।
FIFPro এর মতে, ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ব্যবহার করে এই কাঠামোগত পরিবর্তনগুলোকে তহবিলের মাধ্যমে সমর্থন করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, স্পনসরশিপ, মিডিয়া অধিকার এবং টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সৃষ্ট আয়কে সরাসরি খেলোয়াড়দের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। এভাবে টুর্নামেন্টের আর্থিক লাভকে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হবে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এখন এই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করার পর্যায়ে রয়েছে। FIFPro এর দাবি অনুযায়ী, সমান পারিশ্রমিক ও উন্নত পেশাদার মানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে আসন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সব খেলোয়াড়ই ন্যায্য শর্তে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
প্রেসব্রিফিংয়ে ত্সুজি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টের সফলতা কেবল আর্থিক দিকেই নয়, বরং নারী ফুটবলের সমগ্র ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে নির্ভরশীল। তিনি আহ্বান জানান, খেলোয়াড়, ক্লাব, স্পনসর এবং AFC একসাথে কাজ করে একটি টেকসই ও সমতাপূর্ণ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
এই আলোচনার পর, AFC এর প্রতিনিধিরা টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা ও বাজেটের পুনর্মূল্যায়ন শুরু করার সংকেত দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে পুরস্কার অর্থের কাঠামো পুনর্গঠন, মেডিক্যাল সাপোর্টের মানোন্নয়ন এবং স্টাফিংয়ের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ সালের AFC নারী এশিয়ান কাপ, এশিয়ার নারী ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। FIFPro এর এই আহ্বান এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে, টুর্নামেন্টটি কেবল বাণিজ্যিক দিক থেকে নয়, বরং খেলোয়াড়দের অধিকার ও কল্যাণের দিক থেকেও একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, FIFPro এশিয়া-ওশেনিয়া বিভাগ ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টকে সমান পারিশ্রমিক, উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং পেশাদার মানের উন্নয়নের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তাদের দাবি হল, এই পরিবর্তনগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য AFC এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং আর্থিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন। যদি এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়, তবে এশিয়ার নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল ও টেকসই হবে।



