ইমানুয়েল মাক্রোঁ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, মঙ্গলবার ফিন্যানসিয়াল টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সরকার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করেন এবং ইউরোপের কিছু দেশকে চীনের সঙ্গে সমন্বয় করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্ত ইউরোপের স্বার্থের বিপরীতে যাচ্ছে এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে শীতলতা বাড়তে পারে। এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান উত্তেজনা সম্পর্কে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
ম্যাক্রোঁ এবং ট্রাম্পের মধ্যে পূর্বে বহুবার মতবিরোধ দেখা গেছে; তবে এইবার ফরাসি নেতার মন্তব্যগুলো সরাসরি ট্রাম্পের নীতি লক্ষ্য করে। তিনি ট্রাম্পের প্রশাসনকে “ইউরোপ-বিরোধী” বলে সমালোচনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানকে স্থিতাবস্থা নড়িয়ে দেওয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। এই রূপকথা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দীর্ঘমেয়াদী ইউরোপীয় সংহতি রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা চীনের সুনামির মুখোমুখি হচ্ছি। অন্যদিকে, আমেরিকার দিক থেকে বারবার স্থিতাবস্থা নড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি যুক্তি দেন যে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংঘাত ইউরোপের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে, আর মার্কিন সরকারের নীতি পরিবর্তন ইউরোপীয় বাজারকে অস্থির করে তুলছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো কিছু সরকার শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপটি অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, তবে ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন যে, মার্কিন সরকার এই উদ্যোগকে যথাযথভাবে সমর্থন করছে না। হোয়াইট হাউসের মন্তব্যে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বায়ত্তশাসনের হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ম্যাক্রোঁ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন যে, বছরের শেষের দিকে মার্কিন সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে, যদি মার্কিন সরকার ইউরোপীয় দেশগুলোর শিশু সুরক্ষা নীতি উপেক্ষা করে, তবে তা দুই মহাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শিশুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে ম্যাক্রোঁ আরও জোর দিয়ে বলেন, “ইউরোপীয়দের বলা উচিত যে, আমাদের শিশুদের মাথা বিক্রির জন্য নয়। আমাদের শিশুদের আবেগকে ব্যবহার করে আমেরিকা কিংবা চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো অর্থ উপার্জন করতে পারে না।” এই বক্তব্যে তিনি সামাজিক মিডিয়ার বাণিজ্যিকীকরণকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের নীতি দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ করতে আহ্বান জানান।
ম্যাক্রোঁর এই মন্তব্যগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে একতাবদ্ধ নীতি গঠনের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষত, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি একসাথে শিশু সুরক্ষার জন্য কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করে, তবে তা মার্কিন সরকারকে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
মার্কিন সরকার থেকে এখনো কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে হোয়াইট হাউসের পূর্ববর্তী মন্তব্যগুলো থেকে বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই ধরনের পদক্ষেপকে সীমিতভাবে দেখা হচ্ছে। এই পারস্পরিক মতবিরোধের ফলে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নতুন রূপ দেখা দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, যদি ইউরোপীয় দেশগুলো শিশুদের জন্য সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে, তবে মার্কিন সরকারকে তাদের নীতি সমন্বয় করতে হবে, নতুবা বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। ম্যাক্রোঁর এই সতর্কতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে নীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোরদার করেছে।
সারসংক্ষেপে, ইমানুয়েল মাক্রোঁ ট্রাম্পের নীতি সমালোচনা করে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে সমন্বয় করার সম্ভাবনা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন এক মোড়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার মন্তব্যগুলো ভবিষ্যতে মার্কিন সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



