অভিনেতা নিকিল সিদ্দার্থা তাঁর আসন্ন চলচ্চিত্র “স্বয়ংভু”‑এর মূল ধারণা প্রকাশ করেছেন, যা এই বছর শেষের দিকে মুক্তি পাবে। তিনি জানিয়েছেন যে ছবির কেন্দ্রীয় প্রতীক হিসেবে প্রাচীন সেনগোলকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা নতুন পার্লামেন্ট ভবনে স্থাপনের পর সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। টিজার ১১ ফেব্রুয়ারি একসাথে দুইটি শহরে প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সেনগোলের ঐতিহাসিক পটভূমি প্রাচীনকাল থেকে শুরু হয়। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, রামচন্দ্র তার বংশধরকে এই চিহ্নটি উপহার দেন, যা ন্যায়পরায়ণ শাসন ও ন্যায়বিচারকে প্রতিনিধিত্ব করে। শতাব্দী পর বিভিন্ন ভারতীয় সাম্রাজ্যে, বিশেষ করে চোল রাজবংশে, সেনগোলকে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০২৩ সালে পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনগোলকে হাতে ধরে দেখিয়েছিলেন, এবং নতুন পার্লামেন্ট ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। এই দৃশ্যটি দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, যা চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তাদের দৃষ্টিতে নতুন সৃজনশীল সম্ভাবনা উন্মোচন করে।
নিকিলের মতে, “স্বয়ংভু” কেবল সেনগোলের ঐতিহাসিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং একটি কাল্পনিক নায়কের মাধ্যমে তার প্রতীকী অর্থকে আধুনিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। ছবিতে সেনগোলের যাত্রা ও তার সঙ্গে যুক্ত নৈতিক দায়িত্বকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হবে।
চলচ্চিত্রের গল্পে সেনগোলকে এক কিংবদন্তি অস্ত্র হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নায়ককে ন্যায়পরায়ণ শাসনের আদর্শে পৌঁছাতে হয়। এই কল্পনা মূল ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে মিশে একটি নতুন বর্ণনা গড়ে তুলবে, যা দর্শকদের ইতিহাস ও কল্পনার সেতু পারাপার করতে সাহায্য করবে।
“স্বয়ংভু”র প্রযোজনা দায়িত্বে রয়েছেন ভূবন ও শ্রীকার, যারা পিক্সেল স্টুডিওসের অধীনে কাজ করছেন। দুইজনের সহযোগিতা চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক দিককে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্বে তারা বিভিন্ন বক্স অফিস হিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
টিজার প্রকাশের পরিকল্পনা দু’টি শহরে একসাথে করা হবে, যা চলচ্চিত্রের প্যান-ইন্ডিয়া আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। ১১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই ইভেন্টে মিডিয়া ও সাধারণ দর্শক উভয়ই অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, এবং ছবির প্রথম দৃশ্যপটের ঝলক দেখাবে।
টিজারটি সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরাসরি স্ট্রিম করা হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে আগ্রহী দর্শকরা রিয়েল-টাইমে দেখতে পারেন। এই কৌশলটি ডিজিটাল যুগের প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলচ্চিত্রের শিরোনাম “স্বয়ংভু” শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, যার অর্থ “স্বয়ং সৃষ্ট” বা “নিজেই উদ্ভূত”। নিকিলের মতে, এই নামটি সিনেমার মূল থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সেনগোলের শক্তি স্বয়ংপ্রকাশের প্রতীক।
চলচ্চিত্রের নির্মাণে ঐতিহাসিক গবেষণা ও সাংস্কৃতিক পরামর্শদাতাদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সেনগোলের প্রকৃত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তার সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।
“স্বয়ংভু”র মুক্তির তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে টিজার প্রকাশের পর দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শিল্পের বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন।
নিকিল সিদ্দার্থা উল্লেখ করেছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের ইতিহাসের গভীরতা ও নৈতিক শাসনের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে চান। সেনগোলের গল্পকে আধুনিক সিনেমার ফরম্যাটে উপস্থাপন করে তিনি সংস্কৃতি ও রাজনীতির সংযোগ স্থাপন করতে চেয়েছেন।



