বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে লাহোরে পৌঁছান এবং পাঁচ ঘণ্টা দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার আগে শহরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করা, যাতে চলমান টি-২০ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা সংকট সমাধান হয়।
লাহোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর আমিনুল হোটেলে না গিয়ে সরাসরি গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের কাছের বড় হলের ছাদে অনুষ্ঠিত ঘুড়ি উড়ানোর মাঠে যান। তিনি গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী ছাদে স্থাপিত ঘুড়ি উড়ানোর মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি তাকে চিফ গেস্টের আসন প্রদান করেন।
ঘুড়ি উৎসবের পরিবেশকে তিনি “ম্যাসিভ” এবং “পুরো শহর অন্য লেভেলে” বলে বর্ণনা করেন। উত্সবে অংশ নেওয়ার সময় তিনি নিজেও একটি ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে লাহোরের কূটনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে, যেখানে ঘুড়ি উড়ানো একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ হয়ে ওঠে।
উৎসবের সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়, যেখানে উভয় দেশের সম্পর্ককে ঘুড়ি উৎসবকে একটি মসৃণ করার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আমিনুল চীনের “পিং পং ডিপ্লোমেসি”র কথা স্মরণ করে, লাহোরের এই অনুষ্ঠানকে “কাইট ডিপ্লোমেসি” বলে অভিহিত করেন।
বিসিবি সভাপতি লাহোরে আসার প্রধান কারণ ছিল আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করা। এই বৈঠকের পর টি-২০ বিশ্বকাপের চলমান সংকট কিছুটা হ্রাস পায়, কারণ পাকিস্তান ১৫ ফেব্রুয়ারি কোলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে সম্মত হয়েছে।
আইসিসি বাংলাদেশকে আশ্বাস দেয় যে, ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশ কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। এছাড়া, আইসিসি ২০৩১ সালের আগে বাংলাদেশে একটি বড় ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা নারী বিশ্বকাপ অথবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হতে পারে।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের পিসিবি কার্যালয়ে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিনটি পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান সভায় আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি উপস্থিত ছিলেন, এবং আলোচনার সময় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়।
বৈঠকের আগে ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেওয়ার সময় আমিনুল ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেবিল টেনিস দলের চীন সফরের মাধ্যমে সৃষ্ট “পিং পং ডিপ্লোমেসি”র কথা স্মরণ করেন, যা ক্রীড়া কূটনীতির শক্তি তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক ইভেন্ট ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক।
লাহোরে এই সফরটি ক্রীড়া কূটনীতির একটি নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ঘুড়ি উড়ানোর ঐতিহ্যিক উৎসবকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কের সেতু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইসিসি নির্ধারিত বড় ইভেন্টের প্রস্তুতি এবং টি-২০ বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচের সূচি অনুসরণ করা হবে।



