ঢাকার সচিবালয়ের ক্রয় কমিটি সভার পর ড. স্যালেহুদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, আজ নিজে নিজের কর্মদক্ষতা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্কোর তার তত্ত্বাবধানে গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের সূচনা ও বাস্তবায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত।
উল্লেখযোগ্য যে, তিনি পূর্ণ নম্বর না দিয়ে ৭০‑৮০ শতাংশের সীমা নির্ধারণের কারণ হিসেবে কাঠামোগত ও নীতি সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখেছেন। অনেক পরিকল্পনা শুরু হলেও সম্পূর্ণ রূপে শেষ করা সম্ভব হয়নি, তাই স্ব-মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বর না দেওয়া যুক্তিযুক্ত বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
ড. স্যালেহুদ্দিনের মতে, তার মেয়াদকালে সরকার জনসাধারণের স্বার্থে বেশ কিছু প্রোগ্রাম চালু করেছে, তবে কিছু উদ্যোগের বাস্তবায়ন সীমিত রয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো গোপন এজেন্ডা না রেখে জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করা হয়েছে, তবে কাঠামোগত বাধা সত্ত্বেও সব পরিকল্পনা সম্পন্ন করা যায়নি।
বছরের শেষের দিকে গৃহীত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রক্রিয়াকে তিনি আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল বলে উল্লেখ করেন। পূর্বে যে ধীরগতি দেখা যেত, তা এখন দ্রুততর হয়েছে এবং প্রোগ্রামগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ সহজতর হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রকৃত পরিবর্তন আনার কাজ এখনো বাকি। বিশেষ করে নীতি বিভাগে গভীর নীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। বর্তমান সংস্কারগুলো প্রাথমিক স্তরে থেমে আছে; আরও মৌলিক নীতি পরিবর্তন না হলে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
কর সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান, যা ভবিষ্যৎ কর সংস্কারের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। “আমরা একটি কর নীতি প্রতিবেদন রেখে গেছি, যা পরবর্তী সময়ে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে,” তিনি বলেন, যা কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ড. স্যালেহুদ্দিন উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি বহু দিক থেকে জটিল। স্বতন্ত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠনের জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে আবেদন এসেছে, তবে আইনগত ও কার্যকরী দিক থেকে এটি সহজ নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশে ইতিমধ্যে ব্যাংকের কাঠামো ও ক্ষমতা নির্ধারিত আছে; প্রশ্নটি কেবল গবর্নর নাকি মন্ত্রণালয়ের অধিকারে সীমাবদ্ধ নয়। “এটি শুধুমাত্র ক্ষমতার বিতরণ নয়, বরং আইনি ও পরিচালনাগত দিক থেকে একটি জটিল বিষয়,” তিনি ব্যাখ্যা করেন।
বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর কাছ থেকে ব্যাংকের অধিক স্বায়ত্তশাসন চাওয়ার দাবি শোনা গিয়েছে, তবে ড. স্যালেহুদ্দিনের মতে, এই দাবি বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় আইনি সমন্বয় ও নীতি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
ড. স্যালেহুদ্দিনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তার মেয়াদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নীতি গঠনের জটিলতা কারণে বহু সংস্কার সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি ভবিষ্যতে আরও গভীর নীতি সংস্কার, কর নীতি নির্দেশিকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে, ড. স্যালেহুদ্দিনের স্ব-মূল্যায়ন এবং তার মন্তব্যগুলো বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক দিকের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জের একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সময়ে কাঠামোগত বাধা দূর করে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।



