ঢাকার ভাষানটেক থানার সহকারী উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান, তার স্ত্রীর গর্ভধারণের শেষ পর্যায়ে ছুটি না পেয়ে, সন্তান জন্মের মুহূর্তে উপস্থিত হতে পারেননি। সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর তিনি রাতের অন্ধকারে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে রওনা দেন এবং পরের সকালে শিশুটিকে দাফন করেন।
মেহেদী হাসান ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছিলেন যে তিনি ছুটি চেয়েছিলেন কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি এবং তার ছোট্ট পুত্রের মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি পোস্টে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্তব্য করেন যে তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারত।
এই পোস্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা সৃষ্টি করে। পোস্টের পরের দিন তিনি আরেকটি বার্তা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি পিতার দায়িত্ব ও সন্তানকে হারানোর শোক প্রকাশ করে বলেন যে তিনি নিজের সন্তানকে আর কখনো বাবা বলে ডাকার সুযোগ পাবেন না।
মেহেদী হাসান ভাষানটেক থানার দায়িত্বে ছিলেন এবং কাজের সময়ই তিনি সন্তান জন্ম ও মৃত্যুর খবর পান। ছুটি না পেয়ে তিনি কোনো বিকল্প না রেখে, গভীর রাতে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে গমন করেন। সেখানে তিনি শিশুটিকে দাফন করার পর ফিরে আসেন।
পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা জানান যে মেহেদী হাসান পূর্বেই সন্তান জন্মের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছুটির আবেদন জমা দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তাকে মাত্র দুই দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
মেহেদী হাসান দাবি করেন যে গর্ভধারণের শেষ পর্যায়ে স্ত্রীর সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য অন্তত তিন দিনের ছুটি প্রয়োজন, ফলে তিনি মোট পাঁচ থেকে সাত দিনের ছুটি চেয়েছিলেন। তবে তাকে জানানো হয় যে এতদিনের ছুটি প্রদান করা সম্ভব নয়।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে পোস্টের বিষয়বস্তু ও তার প্রভাব নিয়ে তদন্তের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে। তবে অফিসিয়াল কোনো মন্তব্য বা তদন্তের সূচনা সম্পর্কে এখনো কোনো প্রকাশ নেই।
মেহেদী হাসান পোস্টে উল্লেখ করেন যে সন্তান মৃত্যুর ঘটনা অনিবার্য হতে পারে, তবু তিনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছেন না এবং নিজেকে অপরাধী মনে করছেন। তার এই অনুভূতি পরিবার ও সহকর্মীদের কাছেও শেয়ার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় কর্মস্থলে ছুটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, নির্বাচনের সময়কালে কর্মীদের অধিকার এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



