ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনের দিন সম্ভাব্য সহিংসতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা দিলেন। তিনি জানিয়ে দেন, নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
সভায় ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উপদেষ্টা সকলকে জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বের কোনো নির্বাচনে না দেখা মাত্রার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে সব তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা সম্ভব নয়; কিছু বিষয় গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, গোপনীয়তা সত্ত্বেও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগের বিষয় নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংখ্যা ও প্রস্তুতি পূর্বের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি, যা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
উপদেষ্টা আরও জানান, ইলেকশন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের মোবাইল ব্যবহার সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করেছে। এ বিষয়ে ইসি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, ফলে মিডিয়া কর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা পাবেন না।
সভায় উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি বলেন, সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করবে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের মতে, নির্বাচনের দিন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত দল গঠন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গোপনীয়তা বজায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে, যাতে ভোটারদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ স্তরে থাকে।
সভায় উপস্থিত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকরা উপদেষ্টার বক্তব্যে সম্মতি প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিন সহিংসতা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও কার্যক্রমের মাত্রা নির্ধারণ করা হবে, যা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় পূর্বে গৃহীত কোনো গোপনীয় পরিকল্পনা নেই, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় আলোচনার সময় উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের মতে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা, যেমন বডিক্যাম ও পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম, দ্রুত ক্রয় ও স্থাপন করা হবে। তিনি অতিরিক্তভাবে জানান, এই সরঞ্জামগুলো ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো অনিয়মের রেকর্ড রাখতেও সহায়ক হবে।
উপদেষ্টা শেষ কথা বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি গোপনীয়তা বজায় রেখে চালু রয়েছে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোটদান নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে।
এই সভা ও উপদেষ্টার মন্তব্যের পর, নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আরও আলোচনা ও সমন্বয় কাজ চলবে বলে আশা করা যায়, যা ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ভোটদান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।



