ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, ধর্ম উপদেষ্টা, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই বছরও বাংলাদেশ সরকার হজে কোনো ব্যক্তিকে সরকারি ব্যয়ে পাঠাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় অর্জিত হয়েছে।
উল্লেখিত সময়কালে, সরকারী হজযাত্রীদের জন্য বরাদ্দ করা ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার খরচের অধিকাংশই ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সৌদি আরবে হজ এজেন্সির হাতে আটকে থাকা প্রায় ৩৮ কোটি টাকা উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো হজের আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ড. হোসেন জোর দিয়ে বলেন, গত বছরের মতোই এই বছরও হজ টিমে কোনো চিকিৎসক ব্যতীত মন্ত্রণালয়ের বাইরে কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে, সরকারি তহবিলের অতিরিক্ত ব্যয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হজে পাঠানো যাত্রীর সংখ্যা ও খরচের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে।
বিমান ভাড়া হ্রাসের বিষয়েও তিনি তথ্য শেয়ার করেন। গত দুই বছরে পর্যায়ক্রমে টিকিটের দাম ৪০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে এক টিকিটের মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, আর ২০২৬ সালে তা হ্রাস পেয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। এই হ্রাসের ফলে হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই বছর তিনটি হজ প্যাকেজের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। প্যাকেজগুলোতে সাশ্রয়ী ভাড়া, বাসস্থান ও অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ড. হোসেন বলেন, প্যাকেজ-৩-এ হজিদের আবাসন হারাম শরিফ থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত, যা তাদের জন্য সুবিধাজনক।
হজিদের সুবিধা বাড়াতে ‘লাব্বাইক’ অ্যাপ ও হজ প্রি-পেইড কার্ড চালু করা হয়েছে। এই ডিজিটাল সেবা মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজে পরিচালনা করতে পারবে। তদুপরি, নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে সকল হজিদের জন্য সৌদি আরবে স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা হজের সময় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাবে।
ড. হোসেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ২০২৬ সালের হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২-এ অন্তর্ভুক্ত যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ৩ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে। এই অতিরিক্ত রিফান্ড হজের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী ও হজি সংস্থা পূর্বে সরকারি সহায়তা প্রত্যাশা করলেও, ধর্ম উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারী তহবিলের ব্যবহার সীমিত রাখা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হজ ব্যবস্থাপনা মডেল গড়ে তোলা অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি হজের গুণগত মান বজায় রেখে আর্থিক দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করবে।
হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এই ঘোষণার পর, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সরকারী ব্যয়ের হ্রাস হজের মোট খরচে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে হজি সংস্থাগুলোর স্বনির্ভরতা বাড়াবে। তবে, হজিদের প্রত্যাশা ও সেবার মান বজায় রাখতে পর্যাপ্ত তহবিলের সঠিক বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়ে গেছে।
ড. হোসেনের বক্তব্যে হজের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক দিক থেকে সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হজি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে, হজের সময় সেবা মান উন্নত করা হবে।
সারসংক্ষেপে, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের এই ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, সরকারী ব্যয়ে হজে কোনো যাত্রী পাঠানো হবে না, আর অতিরিক্ত সঞ্চয় ও রিফান্ডের মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ভবিষ্যতে হজি সেবার মান উন্নয়ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ মডেল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ থাকবে।



