যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যরা জেফ্রি এপস্টেইন ও গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সংক্রান্ত ফাইলের কিছু অংশকে অনুপযুক্তভাবে লালচে (redacted) করা নিয়ে ন্যায়বিচার বিভাগের (DOJ) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তি হল, ডিসেম্বর থেকে এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট (EFTA) অনুযায়ী প্রকাশিত প্রায় তিন মিলিয়ন পৃষ্ঠার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাম ও তথ্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
EFTA ২০২২ সালে কংগ্রেসে প্রায় একমতের সঙ্গে পাস হয় এবং এপস্টেইন সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি নথি উন্মোচনের জন্য বাধ্যতামূলক করে। আইন অনুসারে, শিকারদের পরিচয় গোপন রাখা ছাড়া বাকি সব তথ্য প্রকাশ করা উচিত ছিল। তবে আইন প্রয়োগের পর থেকে কিছু নথিতে অপ্রয়োজনীয় লালচে অংশ দেখা যায়, যা আইনসভার সদস্যদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি রো খান্না উল্লেখ করেন, মূল সমস্যা হল DOJ আইন মেনে না চলা, কারণ মার্চ মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কাজ করা FBI এই নথিগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলেছিল। তিনি বলেন, এই লালচে অংশগুলো আইনগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্ক শীঘ্রই একটি টুইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে, অভিযোগের পর DOJ একাধিক নথি থেকে শিকার নয় এমন নামগুলো উন্মোচন করেছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি একটি নতুন সংস্করণের লিঙ্ক শেয়ার করেন, যেখানে শিকারদের নাম ছাড়া বাকি সব নাম প্রকাশিত হয়েছে।
ব্ল্যাঙ্কের এই পদক্ষেপের পর, কংগ্রেসের সদস্য মেসি ও খান্না, যারা গত বছর এই আইনকে সমর্থন করেছিলেন, প্রকাশিত নথিগুলো পর্যালোচনা করে জানান যে প্রায় বিশটি নামের তালিকায় এপস্টেইন ও গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল ছাড়া অন্য সব নাম লালচে করা হয়েছে। এই তালিকায় মাত্র দুইটি নামই স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
মেসি উল্লেখ করেন, তালিকায় অন্তত ছয়টি নাম এমন পুরুষের হতে পারে, যাদের অন্তর্ভুক্তি এই নথিতে তাদের অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্দেশ করতে পারে। তিনি একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে ব্যাখ্যা করেন যে, এই লালচে অংশগুলো অনুপযুক্ত এবং আইন অনুসারে উন্মোচন করা উচিত।
খান্না এই লালচে অংশগুলোকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে সমালোচনা করেন এবং জোর দেন যে, আইন অনুযায়ী শিকারদের নাম ছাড়া অন্য সব তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, লালচে করা নামগুলোতে সম্ভাব্য অপরাধী ব্যক্তিরা থাকতে পারে, যা জনসাধারণের জানার অধিকারকে হ্রাস করে।
ব্ল্যাঙ্কের মতে, DOJ ইতিমধ্যে শিকার নয় এমন সব নাম উন্মোচন করেছে এবং বর্তমানে কেবল দুইটি শিকারীর নামই গোপন রাখা হয়েছে, যা EFTA-র বিধান অনুসারে অনুমোদিত। তিনি আরও জানান যে, মেসি উল্লেখ করা অন্যান্য দুটি নথিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকানো নেই।
তবে খান্না এখনও মনে করেন, এই পদক্ষেপগুলো EFTA আইন মেনে চলা নয়, কারণ লালচে করা নামগুলো এখনও আইনগতভাবে উন্মোচন করা বাকি। তিনি কংগ্রেসের তদারকি কমিটিকে এই বিষয়টি আরও তদন্তের জন্য অনুরোধ করেন।
এই পরিস্থিতিতে, কংগ্রেসের তদারকি কমিটি এবং সম্ভাব্য আদালতীয় চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে DOJ-কে আইন অনুসারে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা প্রদানে বাধ্য করা হতে পারে। আইনসভার সদস্যরা দাবি করছেন যে, যদি লালচে অংশগুলো অব্যাহত থাকে, তবে অতিরিক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারসংক্ষেপে, এপস্টেইন ফাইলের লালচে অংশ নিয়ে চলমান বিতর্ক DOJ-কে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং EFTA আইন মেনে চলতে বাধ্য করবে। কংগ্রেসের তদারকি ও জনসাধারণের নজরদারি এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং ভবিষ্যতে আরও নথি উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।



