ইউটিউব প্রিমিয়াম ও ইউটিউব মিউজিক প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য এখন নতুন AI‑চালিত প্লেলিস্ট তৈরির ফিচার চালু হয়েছে। iOS ও অ্যান্ড্রয়েড উভয় প্ল্যাটফর্মে এই সেবা ব্যবহার করা যাবে, এবং ব্যবহারকারীরা টেক্সট বা ভয়েস প্রম্পটের মাধ্যমে নিজের পছন্দের মিউজিক তালিকা তৈরি করতে পারবেন।
ফিচারটি ব্যবহার করতে হলে লাইব্রেরি ট্যাবে গিয়ে ‘নিউ’ বোতামটি চাপতে হবে, তারপর ‘AI প্লেলিস্ট’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর প্রম্পট ইনপুট করার স্ক্রিনে টেক্সট লিখে অথবা মাইক্রোফোনে কথা বলে পছন্দের মুড বা জেনার উল্লেখ করা যায়।
প্রম্পটের উদাহরণ হিসেবে “রেজিং ডেথ মেটাল”, “স্যাড পোস্ট রক”, “প্রোগ্রেসিভ হাউস মিক্স ফর এ চিল পার্টি”, “ইন্ডি পপ” অথবা “৯০’র ক্লাসিক হিটস” ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যবহারকারী যে কোনো শব্দ বা বাক্যাংশ লিখে নিজের সঙ্গীতের স্বাদ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লেলিস্ট পেতে পারেন।
টেক্সট ইনপুটের পাশাপাশি ভয়েস কমান্ডও সমর্থিত, ফলে চলার পথে বা গাড়িতে থাকলেও সহজে প্রম্পট দেওয়া সম্ভব। একবার প্রম্পট পাঠালে AI দ্রুতই সংশ্লিষ্ট ট্র্যাকগুলো সংগ্রহ করে প্লেলিস্ট তৈরি করে, যা তৎক্ষণাৎ প্লে করা যায়।
ইউটিউবের এই ফিচারটি কোনো হঠাৎ প্রকাশ নয়; কোম্পানি ইতিমধ্যে জুলাই ২০২৪-এ যুক্তরাষ্ট্রে কাস্টম রেডিও স্টেশন তৈরির জন্য প্রম্পট ভিত্তিক টেস্ট চালু করেছিল। সেই সময়ে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট থিমের ভিত্তিতে রেডিও স্টেশন তৈরি করতে পারছিলেন, যা এখন প্লেলিস্ট জেনারেশনে সম্প্রসারিত হয়েছে।
স্পটিফাই, অ্যামাজন মিউজিক এবং ডেজারসহ অন্যান্য স্ট্রিমিং সেবা পূর্বে থেকেই AI‑চালিত প্লেলিস্ট বা রেডিও ফিচার চালু করেছে। ইউটিউবের এই পদক্ষেপটি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখতে এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়াম পরিকল্পনার আকর্ষণ বাড়াতে ইউটিউব সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য গানের লিরিক্স দেখার সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে এটি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ, যেখানে সীমিত শতাংশের বিজ্ঞাপন-সহায়িত ব্যবহারকারীদের লিরিক্স দেখা যাবে না, তবে বেশিরভাগ ফ্রি ব্যবহারকারী এখনও লিরিক্স অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
গুগলের সাবস্ক্রিপশন ব্যবসা সাম্প্রতিক মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ইউটিউব এই বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গুগল জানিয়েছে যে এখন মোট ৩২৫ মিলিয়ন পেইং ব্যবহারকারী রয়েছে, যাদের মধ্যে ইউটিউব প্রিমিয়াম ও গুগল ওয়ান উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। এই সংখ্যা কোম্পানির আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখে।
AI প্লেলিস্ট জেনারেটর ব্যবহারকারীর মিউজিক পছন্দকে দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগতকরণ করার নতুন উপায় প্রদান করে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি সঙ্গীত আবিষ্কারের পদ্ধতিকে সহজ করে তুলবে, এবং প্রিমিয়াম সেবার মূল্য বাড়িয়ে ব্যবহারকারীর আনুগত্য বাড়াতে সহায়তা করবে।



