মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিলেন, তিনি কোনো ব্যর্থতার কারণে পদত্যাগ করছেন না, বরং অর্জিত সাফল্যের ভিত্তিতে বিদায় নিচ্ছেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত নীতি ও ফলাফল তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গত ত্রৈমাসিকের উৎপাদন, আহরণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো উপস্থাপন করা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। উপদেষ্টা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে মৎস্য ও গরু শিল্পে করা কাজের পরিসর ও প্রভাবের সংক্ষিপ্তসার দিলেন।
দাম সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার স্পষ্ট করে বললেন, মাছের বাজারমূল্য বাড়লেও তা তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে না। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের প্রধান দায়িত্ব উৎপাদন ও আহরণ নিশ্চিত করা এবং প্রক্রিয়াকে নিরাপদ রাখা, বাজারের মূল্য নির্ধারণে হস্তক্ষেপ নয়। এভাবে তিনি মৎস্য শিল্পের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের দায়িত্ব থেকে নিজেকে আলাদা করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি বললেন যে মূল্যবৃদ্ধি বহিরাগত কারণের ফল, যেমন আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, পরিবহন খরচ এবং মৌসুমী পরিবর্তন। এসব কারণের প্রভাবের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নেবেন না এবং জোর দিয়ে বলেন, সরকার উৎপাদন বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মূল্য স্থিতিশীল করার দিকে কাজ করছে।
গরু মাংসের দামের আলোচনায় তিনি একই রকম যুক্তি বজায় রাখেন। তিনি বলেন, গরু মাংসের দামও উৎপাদন স্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাই দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোই মূল সমাধান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে স্থানীয় গরু উৎপাদনকে উৎসাহিত করছে।
কৃষক ও চাষীদের আর্থিক চাপে তিনি দৃষ্টিপাত করেন, জানিয়ে দেন যে এখনও প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষক উচ্চতর ইনপুট খরচের সম্মুখীন। এই সমস্যার মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন সহায়তা পরিকল্পনা চালু করেছে, তবে তিনি স্বীকার করেন যে ১৫-১৬ মাসের মধ্যে বড় ধরনের সমাধান দেখা যাবে না।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে উৎপাদন নিরাপদ করা তাদের প্রধান সাফল্য, যা তারা সফলভাবে অর্জন করেছে। তিনি বলেন, উৎপাদন নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দামের ওঠানামা কমাতে সহায়তা করবে। এধরনের অর্জনকে তিনি ভবিষ্যৎ নীতির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ফরিদা আখতারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, তার এই দৃঢ় অবস্থান সরকারকে মূল্য নীতি পুনর্বিবেচনা করতে এবং কৃষক সহায়তা প্যাকেজে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সাফল্যকে ভোটারদের কাছে উপস্থাপন করা সরকারী প্রচার কৌশলের অংশ হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, উপদেষ্টা ফরিদা আখতার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত নীতি, উৎপাদন নিরাপত্তা এবং মূল্য সংবেদনশীলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন, এবং বলেন যে তাদের কাজের ফলাফলকে সাফল্য হিসেবে গণ্য করা উচিত। তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় জোর দিয়ে শেষ করেন।



