সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বাংলাদেশ (সিএএবি) আজ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, দেশের সর্বত্র ড্রোন উড্ডয়ন কার্যক্রম ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, যদিও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ড্রোন ব্যবহার এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না। তাই পুলিশ, রাইফেল, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর পরিচালিত ড্রোন অপারেশন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে। এই ব্যতিক্রমের মাধ্যমে জরুরি সেবা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে, গবেষণা, জরিপ, কৃষি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশগত মনিটরিংয়ের মতো বিশেষ উদ্দেশ্যে ড্রোন চালানোর আবেদন করা হলে অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারী বা বেসরকারি সংস্থা, পাশাপাশি ব্যক্তিগত গবেষকগণ যদি পূর্বে অনুমোদন পেয়ে থাকে, তবে তারা নির্দিষ্ট শর্তে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। তবে এইসব ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে সিএএবির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক।
অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হল সিএএবির কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া। আবেদনপত্রে ড্রোনের ধরণ, উড্ডয়ন এলাকা, সময়সীমা এবং উদ্দেশ্যসহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর অনুমোদন সংগ্রহ করা হয়, যাতে সকল নিরাপত্তা ও আইনগত দিক পূরণ হয়।
অনুমোদন পাওয়ার পর ড্রোন চালু করা হলে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছ থেকে চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। এই ক্লিয়ারেন্সে উড্ডয়ন উচ্চতা, ভৌগোলিক সীমা এবং ফ্লাইট সময়ের উপর সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। সিএএবি এই শর্তগুলোকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী যে কোনো ব্যক্তি সিভিল এভিয়েশন অ্যাক্ট, ২০১৭ এর ধারা ২৪ অনুযায়ী অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এই ধারা অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি আর্থিক জরিমানা এবং/অথবা কারাদণ্ড হতে পারে। সিএএবি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্কতা জারি করেছে।
ড্রোন হবি প্রেমিক ও শৌখিন উড্ডয়নকারী এই নিষেধাজ্ঞা থেকে সরাসরি প্রভাবিত হবে। তাদের জন্য অনুমোদন প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে শৌখিন উড্ডয়ন ক্লাব, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ব্যক্তিগত উড্ডয়ন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে।
বাণিজ্যিক ড্রোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই নিষেধাজ্ঞা বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। ডেলিভারি, ম্যাপিং এবং মিডিয়া কভারেজের মতো সেবা এখন পর্যন্ত স্থগিত হতে পারে, যদি না তারা বিশেষ অনুমোদন পায়। তাই এই শিল্পের অংশীদারদের দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অনুমোদন নিশ্চিত করা জরুরি।
সিএএবি দেশের বিমান চলাচল ও আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের প্রধান সংস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান করবে। সংস্থার কর্মীরা নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ, লঙ্ঘন সনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় থাকবে। এছাড়া, ড্রোন অপারেটরদের জন্য তথ্য সেবা ও নির্দেশিকা প্রদান করে নিয়ম মেনে চলার সুবিধা বাড়ানো হবে।
নিষেধাজ্ঞা আজই কার্যকর হয়েছে এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। এই সময়কালে সিএএবি সংশ্লিষ্ট সকল আবেদন পর্যালোচনা করবে এবং অনুমোদনের শর্ত নির্ধারণ করবে। অনুমোদনপ্রাপ্ত ড্রোন উড্ডয়ন কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হতে পারে।
ভবিষ্যতে সিএএবি ড্রোন ব্যবহারের জন্য আরও স্পষ্ট নীতি ও নির্দেশিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনা করে নিয়মাবলী আপডেট করা হবে বলে সংস্থা জানিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ড্রোন প্রযুক্তিকে সুশৃঙ্খলভাবে উন্নয়ন করতে এবং দেশের বিভিন্ন খাতে এর ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করবে।
ড্রোন উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করা সকল স্টেকহোল্ডারের জন্য অপরিহার্য। সিএএবির নির্দেশনা অনুসরণ করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে এবং আইনগত জটিলতা এড়ানো যাবে। তাই ড্রোন অপারেটরদের উচিত দ্রুত আবেদন জমা দিয়ে অনুমোদন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, যাতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর আবার স্বাভাবিকভাবে আকাশে ড্রোন উড়াতে পারে।



