আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হোলারিতে আজ আইনজীবী পালাশ চন্দ্র রায় আনিসুল হক ও সালমান আর.এফ. রহমানের জেলখানায় ভোট দিয়েছেন এমন গুজবকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘোষণা করেছেন। উভয় অভিযুক্তের রক্ষা দল জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
পালাশ চন্দ্র রায় উভয় ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্টভাবে বললেন, তাদের সম্পর্কে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত মিথ্যা তথ্যের ফলে জনমত বিভ্রান্তি বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জেলখানায় ভোটের জন্য নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, যার মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ব নিবন্ধন।
এই গুজবের মূল উৎস হিসেবে সামাজিক নেটওয়ার্কে শেয়ার করা পোস্টগুলোকে রায় ‘ভুল তথ্য’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার ব্যবহার করতে হলে প্রথমে জেলখানার প্রশাসনের অনুমোদন এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, যা দুজনের ক্ষেত্রেই হয়নি।
রায়ের মতে, ভোটের জন্য নিবন্ধন না থাকলে জেলখানার ভিতরে ভোটদান করা আইনত অসম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমার ক্লায়েন্টদের কোনো নিবন্ধনই করা হয়নি, তাই জেলখানায় ভোটের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” এই বক্তব্যে তিনি ভোটের প্রক্রিয়া ও আইনি শর্তাবলী স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন।
একই সময়ে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অন্য গুজবও রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয় সালমান আর.এফ. রহমান নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী প্রতীকের জন্য ভোট দিয়েছেন। রায় তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেন।
আনিসুল হক ও সালমান আর.এফ. রহমান বর্তমানে জেলখানায় আটক আছেন এবং জুলাই ২০২৪ সালের ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। উভয়ই ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ মামলায় অভিযুক্ত।
এই মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে চলছে, যেখানে উভয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্য শোনার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতে তাদের উপস্থিতি ইতিমধ্যে ঘটেছে, এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হবে।
রায়ের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অপ্রমাণিত তথ্যের প্রভাব কমাতে জনসাধারণকে যাচাইযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করতে আহ্বান জানানো জরুরি। তিনি বিশেষ করে ভোট সংক্রান্ত গুজবের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। দুজনেই পূর্বে শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক পদে ছিলেন; আনিসুল হক সাবেক আইন মন্ত্রী এবং সালমান আর.এফ. রহমান শীর্ষ পার্টির উপদেষ্টা ছিলেন, যিনি শীঘ্রই পদত্যাগের পরোয়ায় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে গুজবের ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক পরিবেশে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
আইনি দল আশা প্রকাশ করেছে, সত্যিকারের তথ্যের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া চলবে এবং কোনো গুজবের ভিত্তিতে জনমত গঠন করা উচিত নয়। রায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভোটের অধিকার ও জেলখানার ভিতরে ভোটদান প্রক্রিয়া কঠোর আইনি নিয়মের অধীন, যা সহজে লঙ্ঘন করা যায় না।
অবশেষে, রায় জনসাধারণকে অনুরোধ করেছেন, অনির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য শেয়ার না করে সরকারী ও আদালতের প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মতামত গঠন করতে। এভাবে গুজবের বিস্তার রোধে সহায়তা করা সম্ভব হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।



