দশই ফেব্রুয়ারি, ঢাকা সেনানিবাসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৪টি স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের প্রতিনিধিত্বকারী দলকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি)‑এর কাছে নতুন অনুসন্ধান‑উদ্ধার যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক, উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি দেশের দুর্যোগপ্রবণ প্রকৃতি ও সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের পাশাপাশি এএফডি‑এর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। হস্তান্তরের সময় উপদেষ্টা পূর্বে উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত যানবাহনের চাবি হস্তান্তর করে সরঞ্জামগুলোর পরিদর্শন করেন।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং মানুষের জীবন‑সম্পদ রক্ষা ও দুর্যোগ‑পরবর্তী দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলা টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি এবং এই হস্তান্তরিত সরঞ্জামগুলো সেই দিকের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
আধুনিক যন্ত্রপাতি সশস্ত্র বাহিনীর কাজকে দ্রুত, কার্যকর এবং নিরাপদ করে তুলবে, বিশেষ করে দূরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে এগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে, এ বিষয়ে উপদেষ্টা আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সরঞ্জামগুলোর মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রকল্পের আওতায় হস্তান্তরিত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে তিনটি হেভি ডোজার (প্রতিটি ৪৮ টন ক্ষমতাসম্পন্ন), তিনটি ডোজার (প্রতিটি ২০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন) এবং তিনটি ফর্কলিফট। সব যন্ত্রপাতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাপানি কোম্পানি কোমাটসু (KOMATSU) দ্বারা নির্মিত, যা উচ্চ সক্ষমতা, টেকসই গঠন এবং দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্ন কাজের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী বলে বিবেচিত।
উপদেষ্টা একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্কারমূলক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় বর্তমানে কাঠামোগত পরিবর্তন ও প্রক্রিয়া উন্নয়নের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দিকে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে জরুরি সেবা প্রদান ও সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানও সরঞ্জামের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই যন্ত্রপাতি সশস্ত্র বাহিনীর অনুসন্ধান‑উদ্ধার কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উল্লেখ করেন, সরঞ্জাম হস্তান্তরের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি, ত্রাণ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামেও সমন্বিত উন্নয়ন চালিয়ে যাবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান হস্তান্তরিত যন্ত্রপাতি পরিদর্শনের সময় বললেন, এই সরঞ্জামগুলো দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে।
এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি হলে দুর্যোগের সময় সরকারের দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে, যা জনমত ও নির্বাচনী পরিবেশে সরকারকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে। একই সঙ্গে, মন্ত্রণালয়ের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি ও কাঠামোর স্বচ্ছতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি দেশের দুর্যোগপ্রবণ বাস্তবতা মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মন্ত্রণালয়ের সংস্কার উদ্যোগের সমন্বয়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে দুর্যোগের সময় দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।



