ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০টি আসনে মোট ২,২১৭ জন প্রার্থী তালিকাভুক্ত হয়েছে; এদের মধ্যে ৮৫ জন নারী, যার মধ্যে ৬৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা-৯, ১৪, ৭, ৮, ১০, ১২, ৯, ১১, ৫ এবং ৭ আসনের স্বতন্ত্র, দলীয় ও মিত্রপ্রার্থী নারীরা ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন।
ইশতেহার প্রকাশ করা প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা (ফুটবল), ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (ধানের শীষ), ঢাকা-৭ আসনের বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত (কাঁচি), ঢাকা-৮ আসনের গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম (ট্রাক), ঢাকা-১০ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা (ঈগল), ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার (মাথাল), ঢাকা-৯ আসনের গণফোরামের প্রার্থী নাজমা আক্তার (উদীয়মান সূর্য), ঢাকা-১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি (ফুটবল), ঢাকা-৫ আসনের বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) এবং ঢাকা-৭ আসনের জেএসডি প্রার্থী শাহানা সেলিম (তারা) অন্তর্ভুক্ত।
ইশতেহার প্রকাশ না করা প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী বহ্নি বেপারী (লাঙ্গল), ঢাকা-১৮ আসনের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী সাবিনা জাবেদ (আম), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সালমা আক্তার এবং ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (আপেল) রয়েছেন।
নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনের মন্তব্য উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বড় দুই দল—বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—মোট ১০ জন নারীকে ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়নি এবং উভয় দলই নারীদের অবমূল্যায়ন করেছে। তিনি দাবি করেন, দলগুলোকে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত।
ঢাকা-৭ আসনের বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত, যিনি কাঁচি প্রতীক বেছে নিয়েছেন, ইশতেহারে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণমুক্তি এবং আসনকে পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তরের অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। তিনি নির্বাচিত হলে নদীর পানির গুণমান উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং শহরের সড়ক, পার্ক ও পাবলিক স্পেসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা তৈরি করবেন।
ঢাকা-১০ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা (ঈগল) তার ইশতেহারে দশটি মূল অঙ্গীকার তালিকাভুক্ত করেছেন। তার পরিকল্পনায় অপরাধপ্রবণ এলাকায় নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ইজারা দেওয়া মাঠগুলোকে ইজারামুক্ত করে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করা, এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তিনি সড়ক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যান্য নারী প্রার্থীরাও নাগরিক সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছেন। ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম, যিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বেছে নিয়েছেন, কৃষি উৎপাদন ও বাজার সংযোগ উন্নয়নের জন্য স্থানীয় কৃষকদের সহায়তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ঢাকা-৮ আসনের গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম (ট্রাক) পরিবহন ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।
মোট ২,২১৭ প্রার্থীর মধ্যে ৮৫ জন নারী প্রার্থী উপস্থিতি, যদিও দলীয় কাঠামোর মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত, তবে ইশতেহারে প্রকাশিত অঙ্গীকারগুলো থেকে দেখা যায় যে নারী প্রার্থীরা নাগরিক সমস্যার সমাধানে বাস্তবিক পদক্ষেপের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের এই অঙ্গীকারের প্রতি গ্রহণযোগ্যতা ও প্রার্থীদের বাস্তবায়ন ক্ষমতার ওপর।
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী ভোটদান ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, এবং ফলাফল ঘোষণার পর পার্টিগুলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য নীতি নির্ধারণ করতে হবে। নারী প্রার্থীদের অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা দেশের নগর ও গ্রামীণ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



