শুক্রবার রাতের দিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার যাচাই‑প্রাপ্ত ফেসবুক পেজে একটি বার্তা প্রকাশ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী মিস তাকাইচি‑কে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে অর্জিত ঐতিহাসিক ও ভূমিধস জয় জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন। এই বার্তাটি জাপানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে তাকাইচি‑এর নেতৃত্বে দলটি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ড. ইউনূসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই ফলাফল জাপানের নাগরিকদের নতুন প্রধানমন্ত্রী‑প্রশাসনের প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ।
বার্তায় ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলছেন, এই বিজয় জাপানের জনগণের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি‑এর দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের প্রতি গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আস্থা দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি‑নির্ধারণে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাপানের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। তদুপরি, তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, নতুন প্রশাসনের অধীনে জাপান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততা আরও দৃঢ় করবে।
ড. ইউনূসের মন্তব্যে জাপানের ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি‑এর নেতৃত্বে জাপান তার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতি‑সমূহকে পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা গড়ে তুলবে। এছাড়া, তিনি জাপানের সরকারকে (জাপান সরকার) প্রশংসা করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সামাজিক কল্যাণ ও প্রযুক্তি‑নবীকরণে ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখবে।
ড. ইউনূসের বার্তায় বাংলাদেশ‑জাপান দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার (বাংলাদেশ সরকার) জাপানের সঙ্গে গড়ে তোলা বন্ধুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও মজবুত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, জাপানের ধারাবাহিক সহায়তা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।
অধিকন্তু, ড. ইউনূস জাপানের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করে বলেন, জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের সড়ক, সেতু, রেলওয়ে এবং বন্দর নির্মাণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পগুলো দেশের বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া, জাপানের প্রযুক্তি‑ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রোগ্রামগুলো বাংলাদেশের যুবকদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার (বাংলাদেশ সরকার) জাপানের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য উভয় পক্ষই একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থের অগ্রাধিকারগুলোকে সামনে রেখে নতুন বিনিয়োগ, গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে জাপান ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো, নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক কল্যাণে সরাসরি অবদান রাখবে। তদুপরি, তিনি জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে বাংলাদেশের শিল্পখাতকে আধুনিকায়ন করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।
বহু বিশ্লেষক এই ফলাফলকে জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী‑প্রশাসনের অধীনে জাপান আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হবে, যা বাংলাদেশ‑জাপান সম্পর্কের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই ঐতিহাসিক জয় জাপানের নীতি‑নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা আনবে এবং বাংলাদেশ সরকার (বাংলাদেশ সরকার) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে, অবকাঠামো, শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পগুলো উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ফলে, দুই দেশের কূটনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সমন্বিত ভূমিকা পালন করবে।
বার্তার শেষাংশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানের প্রধানমন্ত্রী মিস তাকাইচি‑কে সুস্বাস্থ্য ও ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেছেন এবং জাপানের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি এই শুভেচ্ছা জাপান সরকার (জাপান সরকার) ও বাংলাদেশ সরকারের (বাংলাদেশ সরকার) ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মসৃণ ও সমৃদ্ধিপূর্ণ পথের ইঙ্গিত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।



