ড. আসিফ নজরুল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা, মঙ্গলবার ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন পরিবেশ এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ড. আসিফ উল্লেখ করেন, নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্তি বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দল নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চেয়েছিল। ড. আসিফ তাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে বহু বছর পর বাংলাদেশে সত্যিকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং জনগণকে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।
ড. আসিফ জোর দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো সদস্যই বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অনুশোচনামূলক মন্তব্য করেননি এবং তারা এই প্রচেষ্টায় অংশ নিতে ইচ্ছুক নয়। ফলে, নতুন রাষ্ট্রের কাঠামো গঠনে তাদের অংশগ্রহণ সম্ভব নয়, তিনি স্পষ্ট করে বলেন।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ীদের দায়িত্বের দিকে ইঙ্গিত করেন। বিজয়ী দলকে সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং নির্বাচনের পর ঘোষিত নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এই দায়িত্বের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মান উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
ড. আসিফ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জুলাই মাসে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ত্যাগকে স্মরণ করে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। ত্যাগীর স্মৃতি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর ন্যায়বিচার ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে প্রেরণা দেবে।
নারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই নির্বাচনে নারীর ভোটার সংখ্যা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি; বরং পূর্বের তুলনায় আরও বেশি নারী ভোট দেবে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা বাড়বে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
ড. আসিফ অতীতের ফ্যাসিস্ট সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে নেকাব পরা নারীরা প্রায়শই হয়রানির শিকার হতেন, যা রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করত। আজকের পলিটিক্যাল স্পেসে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারীর ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই পরিবর্তন কেবল ভোটার সংখ্যা নয়, বরং নারীর নেতৃত্বের সম্ভাবনাকেও উজ্জীবিত করবে।
ড. আসিফের মন্তব্য অনুসারে, নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়তে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য। তিনি জোর দেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চায়, তবে তাদেরকে বাদ দেওয়া স্বাভাবিক।
এই বক্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে, বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। ড. আসিফের মতামত বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্তি অসম্ভব বলে স্পষ্ট করা হয়েছে, এবং নারীর ভোটার অংশগ্রহণের বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই বিবরণি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোর দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



