বেসরকারি শারিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণে ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে, এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে প্রক্রিয়াটি জটিল এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গৃহীত একীভূত সংস্থা, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, ১ ডিসেম্বর লাইসেন্স পেয়ে ১ জানুয়ারি থেকে তার শাখাগুলোতে লেনদেন শুরু করেছে। এই নতুন ব্যাংকটি পাঁচটি শারিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকের সম্পদ ও দায় একত্র করে গঠিত, যা দেশের ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টরের কাঠামোকে পুনর্গঠন করেছে।
একীভূতকরণের পূর্বে, ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর প্রকাশ্যভাবে জানিয়েছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা মাসের শেষের দিকে তাদের টাকা তুলে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, অনিয়মের কারণে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং শেয়ারগুলো শূন্য মূল্যায়িত হয়েছে।
গভর্নরের এই ঘোষণার পর, শেয়ারহোল্ডারদের উদ্বেগ বাড়ে। তবে অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন যে, ডিপোজিটরদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের টাকা সম্পূর্ণভাবে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি জোর দেন যে, ৪২ হাজার কোটি টাকা কেন প্রদান করা হয়েছে তা স্পষ্ট করা জরুরি, পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করা হবে।
শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রধান চ্যালেঞ্জ হল ব্যাংকগুলোর নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) নেগেটিভ হওয়া। অর্থ উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন যে, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ তার দায়ের চেয়ে কম থাকে, তখন শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া, শেয়ারহোল্ডাররা বাজারের সংকেত অনুসরণ করে শেয়ার ক্রয় করেছেন, তাই তাদের ক্ষতিপূরণে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
এই জটিলতা মোকাবিলার জন্য একটি ক্ষতিপূরণ মডেল তৈরি করা হচ্ছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, কেউ যদি বড় পরিমাণ শেয়ার ক্রয় করে থাকেন, তবে তাকে আংশিকভাবে শেয়ার ফেরত দেওয়া বা অন্য কোনো আর্থিক সমাধান প্রদান করা হতে পারে। মডেলটি চূড়ান্ত হওয়ার পর, পরবর্তী অর্থমন্ত্রীকে তা অনুমোদন করে বাস্তবায়ন করতে হবে।
ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নেতিবাচক হলে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর একতরফাভাবে দায় চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়, এ কথাও উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন। তিনি ভবিষ্যতে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও টেকনিক্যাল সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই একীভূতকরণ ও ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা দেশের শারিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ না হলে ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা ব্যাংকিং খাতের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করবে।
অন্যদিকে, ডিপোজিটরদের সম্পূর্ণ রিফান্ড নিশ্চিত করা আর্থিক সিস্টেমের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দৃঢ়তা প্রদর্শন করবে। এটি ব্যাংকিং সেক্টরে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক সুরক্ষার মানদণ্ডকে শক্তিশালী করবে।
সামগ্রিকভাবে, শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ মডেল তৈরির প্রক্রিয়া এখনও শুরু পর্যায়ে, তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সেক্টরের স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই মডেল কীভাবে কার্যকর হবে এবং কোন শর্তে শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন, তা বাজারের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।



