দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা ও তার আশেপাশের শিল্পকেন্দ্রগুলো থেকে গৃহযাত্রীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গৃহভ্রমণ, ভোটদান এবং দীর্ঘ ছুটির সময় পরিবারিক মিলনের উদ্দেশ্যে মানুষ রওনা হয়েছে, ফলে সড়ক, রেলওয়ে এবং জলপথে তীব্র চাপ দেখা দিচ্ছে।
গত রাত থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গৃহযাত্রীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে এই প্রবাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গৃহযাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলো ভিড়ের শিকলে পৌঁছেছে, যেখানে বহুজন ভোটের জন্য গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।
গাবতলি বাস টার্মিনালে এক গার্মেন্টস কর্মী আকরাম হোসেন তার গন্তব্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন: “আমরা রাজবাড়ির গ্রাম বাড়িতে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকব এবং ভোট দেব।” তার এই বক্তব্য গৃহযাত্রীর মূল প্রেরণাকে তুলে ধরেছে।
একই সময়ে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল থেকে হাজারো গার্মেন্টস কর্মী আজ সকালে রওনা হয়েছে। সরকার ভোটের সুবিধার্থে কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, ফলে গাজীপুর, টঙ্গি, চৌরাস্তা, কোণাবাড়ি ও শ্রীপুরের বেশ কয়েকটি শিল্প ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এই বন্ধের ফলে ঢাকা–ময়মনসিংহ, ঢাকা–কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকা–টাঙ্গাইল প্রধান সড়কগুলোতে বাস স্ট্যান্ডে দীর্ঘ সারি গড়ে উঠেছে। পুরুষ ও নারী উভয়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে গাড়ি, বাস ও ট্রেনে চড়ার জন্য লাইন গঠন করছেন।
মাওনা হাইওয়ে থানা অফিসার-ইন-চার্জ কামরুজ্জামান জানান, ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কে মাঝেমধ্যে ট্রাফিক জ্যাম দেখা গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “সকাল থেকে গাড়ির প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।” এই মন্তব্য বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতির তীব্রতা প্রকাশ করে।
গৃহযাত্রার মাত্রা ঈদ ছুটির ভিড়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে; শিল্পবেল্ট থেকে ক্রমাগত যাত্রী বেরিয়ে আসছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ি চলাচল সহজ করার জন্য বিভিন্ন স্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
শ্রীপুরের গার্মেন্টস কর্মী রাহিমা বেগম বলেন, “সারা বছর কাজের চাপের মধ্যে থাকি, যদিও যাত্রা কঠিন, তবু পরিবারে ফিরে ভোট দেওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” তার মতামত গৃহযাত্রীর সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে জোর দেয়।
অন্য এক কর্মী, আবদুল করিম, ভিড় ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন: “বাস স্ট্যান্ডে মানুষে মানুষে ভরে গেছে, ভাড়া বাড়লেও ভোটদান আমাদের দায়িত্ব।” এই মন্তব্য গৃহযাত্রীর সময় যাত্রীদের মুখোমুখি হওয়া আর্থিক চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।
বৃহৎ সংখ্যক ভোটার গৃহে ফিরে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটের ফলাফল রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে শ্রমিক ও গ্রামীণ ভোটারদের মতামতকে কেন্দ্র করে পার্টিগুলোর কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
অধিকাংশ রওনা হওয়া গৃহযাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্মী ও পুলিশ টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সরকার ভোটের দিন পর্যন্ত চলমান যাতায়াতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত করেছে।



