চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় অবস্থিত আবুল খায়ার গ্রুপের স্টারশিপ ফ্যাক্টরিতে আজ সকাল ১০:৫০ টার দিকে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে অন্তত একাদশ কর্মী আহত হয়েছে। ফ্যাক্টরিটি তরল পণ্য উৎপাদনের জন্য বোতল তৈরির একটি বিশেষ কক্ষে এই ঘটনা ঘটেছে, যা কোম্পানির উৎপাদন শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় দু’ঘণ্টা পরে, দুপুর ১২ টার দিকে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুনের মূল কারণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ইঙ্গিত দেয়।
ফ্যাক্টরির কর্মীরা আগুনের শিখা ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আহতদের তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতাল ও গ্রুপের নিজস্ব চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠায়। আহতদের মধ্যে আটজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়াই বাড়ি ফেরার অনুমতি পেয়েছেন, আর বাকি তিনজন এখনো পর্যবেক্ষণাধীন আছেন।
আবুল খায়ার গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইমরুল কাদের ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, বিস্ফোরণটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ফলাফল। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বয়লার বিস্ফোরণের গুজবকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে খণ্ডন করেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরও জানান, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি পাওয়া গেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
বিপর্যয়টি স্টারশিপ ফ্যাক্টরির উৎপাদন কার্যক্রমে তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। তরল পণ্যের বোতল তৈরির লাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই ধরণের উৎপাদন বন্ধের ফলে গ্রাহকদের অর্ডার ডেলিভারিতে বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোম্পানির বিক্রয় আয়কে স্বল্পমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।
আবুল খায়ার গ্রুপের শেয়ার বাজারে কোনো সরাসরি তালিকাভুক্তি না থাকলেও, এই ঘটনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কোম্পানির বীমা নীতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও পুনরুদ্ধার খরচ কভার করা হতে পারে, তবে অতিরিক্ত মেরামত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ও প্রয়োজন হতে পারে।
বিপদের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় শিল্প সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়বে বলে আশা করা যায়। নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন, কর্মী প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণকে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের সামগ্রিক নিরাপত্তা উন্নত করবে, তবে স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্টারশিপ ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধের ফলে তরল পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা একই সেক্টরের প্রতিযোগীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে, গ্রুপের দ্রুত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও বিকল্প উৎপাদন সুবিধা সক্রিয় করা হলে এই প্রভাব সীমিত করা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই দুর্ঘটনা কোম্পানির নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা, উৎপাদন ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশলকে পুনরায় গুরুত্ব দিতে বাধ্য করবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে প্রযুক্তিগত আপডেট, নিয়মিত অডিট এবং কর্মী সচেতনতা বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অবশেষে, ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত চলমান থাকায়, শেষ পর্যন্ত কারণ নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা শিল্পের নিরাপত্তা মানকে শক্তিশালী করবে এবং ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতাকে সুরক্ষিত রাখবে।



