সরকারের মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন পরামর্শ কমিটি আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর অবরকে একটি খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে, যেখানে শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা হয়েছে। কমিটিতে দশজন সদস্য রয়েছেন, যার নেতৃত্বে আছেন এমেরিটাস প্রফেসর ড. মানজুর আহমেদ।
কমিটির প্রধান সুপারিশের মধ্যে রয়েছে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির (SMC) সভাপতি পদ থেকে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়া। নতুন নিয়মে SMC সভাপতি হিসেবে অন্তত বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন, এবং পছন্দ করা হবে স্থানীয় শিক্ষাবিদ বা প্রকৃত অভিভাবক।
কমিটি উল্লেখ করেছে যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে অনেক SMC প্রভাবের কেন্দ্র এবং আর্থিক অনিয়মের উত্সে পরিণত হয়েছে, যা শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত শিক্ষা অধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিকরা যদি সরকার পর্যাপ্ত মানের শিক্ষা প্রদান না করে, তবে আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন। সংবিধানে শিক্ষাকে শুধুমাত্র নীতি নয়, মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলে শিক্ষার অধিকার রক্ষার জন্য আইনি কাঠামো তৈরি হবে।
কমিটি এছাড়াও ডিরেক্টরেট অফ সেকেন্ডারি অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন (DSHE) অতিরিক্ত কাজের চাপের মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করে, মাধ্যমিক স্তরের (শ্রেণি ৬-১২) তত্ত্বাবধানের জন্য একটি আলাদা ডিরেক্টরেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এই নতুন ডিরেক্টরেটের পাশাপাশি একটি তাত্ক্ষণিক মাধ্যমিক শিক্ষা টাস্কফোর্স গঠন এবং একটি স্বাধীন, আইনগত স্থায়ী শিক্ষা কমিশন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব থেকে সংস্কারগুলো রক্ষা পায়।
শিক্ষকের গুণগত মানকে সবচেয়ে দুর্বল লিঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে, কমিটি জাতীয় শিক্ষক সেবা কর্পস (NTSC) গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। NTSC-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং পারফরম্যান্স মূল্যায়নকে একক কাঠামোর অধীনে সংহত করা হবে।
কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ মাহবুব মোরশেদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের সহযোগী অধ্যাপক, মূল ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী এবং শিক্ষা অধিকার আইন দুটোই আইনসভায় আলোচনা ও অনুমোদনের পর কার্যকর হবে। যদি পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়, তবে নাগরিকদের জন্য শিক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের নতুন প্রক্রিয়া চালু হবে।
এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আর্থিক ও প্রশাসনিক সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নতুন ডিরেক্টরেট ও কমিশনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।
শিক্ষা অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষার সমতা, গুণগত মান এবং প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করবে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনার সন্তান বা আত্মীয়ের শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে নতুন আইন কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিকার বিভাগে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে আইনি সহায়তা নিতে পারেন।



