কানাডার নাগরিক তানভীর আলী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, জুলাই ২০২৪-এ ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে চারটি পৃথক মামলায় এবং রামপুরা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত। গুলশান, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থানার তিনটি হত্যা মামলা এবং রামপুরা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোতে তানভীর আলীকে পরিকল্পনা ও অর্থ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বলা হয়েছে।
তানভীর আলী কানাডার নাগরিক হলেও বাংলাদেশে ৭৫টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারিত্বে যুক্ত। ২০২৪ সালের শেষের দিকে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে কী‑নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত করে। তার ব্যবসায়িক প্রোফাইল ও সরকারি পদে নিয়োগের পরেও তিনি গুলশান থানা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে (নেতা, সভাপতি, সহসভাপতি) উল্লেখিত হয়ে অভিযোগের মুখে আছেন।
গুলশান থানা আওয়ামী লীগে তার ভূমিকা সম্পর্কে নথিতে অসঙ্গতি দেখা গেছে; এক নথিতে তাকে নেতা, অন্য নথিতে সভাপতি, আর তৃতীয় নথিতে সহসভাপতি বলা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই অসঙ্গতি এবং পরিবারের ব্যবসায়িক বিরোধের পটভূমি তানভীর আলীকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানোর কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোতে প্রমাণের ঘাটতি ও সাক্ষীর অস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
১৯ জুলাই ২০২৪-এ ঢাকা ভাটারায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপোর্ট স্টাফ আবদুল্লাহ আল আবির গুলিতে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তানভীর আলীর নাম যুক্ত করা হয়, যদিও ঘটনাস্থল গুলশান থানা এলাকার পার্ক রোড অ্যাভিনিউ, বারিধারা সোসাইটি হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ২০ আগস্ট একই বছরের মামলায় মাহমুদ আহেদ আলী নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে তানভীর আলীকে গুলশান থানা আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুলশান, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ি থানার তিনটি পৃথক হত্যার মামলায় তানভীর আলীকে পরিকল্পনা ও অর্থ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। রামপুরা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায়ও একই রকম অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও ঘটনাস্থল ও শিকারীর পরিচয় ভিন্ন। সব মামলায় প্রমাণের ভিত্তি মূলত অভিযোগকারী ও সাক্ষীর বিবৃতি, যা তদন্তকারী সংস্থা এখনো সম্পূর্ণভাবে যাচাই করছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, তানভীর আলী এক বছরের বেশি সময় ধরে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন, তবে এখনও কোনো আইনি প্রতিকার পাননি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো রায় না হওয়ায় তিনি ধারাবাহিকভাবে আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি শীঘ্রই নির্ধারিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, তানভীর আলীর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোতে প্রমাণের ঘাটতি, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে। একই সঙ্গে, তার পরিবারিক ব্যবসায়িক বিরোধের পটভূমি মামলাগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো আদালতে বিবেচনা করা হবে এবং প্রমাণের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।
তানভীর আলীর আইনজীবী দল আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোতে প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন। তারা দাবি করছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলো রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আদালত এখন পর্যন্ত এই যুক্তিগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে তা স্পষ্ট নয়।
অধিকন্তু, তানভীর আলীর স্বতন্ত্র পরিচালক পদ ও কী‑নোট স্পিকারের ভূমিকাকে কিছু বিশ্লেষক রাজনৈতিক প্রভাবের সূচক হিসেবে দেখছেন, তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি সংবাদ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার ব্যবসায়িক সাফল্য ও সরকারি পদে নিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলোকে কীভাবে বিচার করা হবে, তা ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল।
সামগ্রিকভাবে, তানভীর আলীর বিরুদ্ধে আনা একাধিক মামলা, নথিতে অসঙ্গতি, এবং পরিবারের ব্যবসায়িক বিরোধের পটভূমি একটি জটিল আইনি চিত্র গঠন করেছে। তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত উভয়ই এখন পর্যন্ত প্রমাণের যথার্থতা ও সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এই মামলাগুলোর পরবর্তী পর্যায়ে আদালত কী রায় দেবে, তা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তানভীর আলীকে এখনো কোনো রায় না পেয়ে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে, এবং শীঘ্রই নির্ধারিত শুনানিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণের ভিত্তি স্পষ্ট হবে।
এই রিপোর্টে উল্লেখিত সকল তথ্য সরকারি রেকর্ড, আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রকাশিত বিবরণীর উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়ের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, প্রকাশিত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে।



