দিল্লির আরুণ জৈতল্য স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে নেদারল্যান্ডস দল ৭ উইকেট পার্থক্যে নামিবিয়াকে পরাজিত করে, টুর্নামেন্টে প্রথম জয় অর্জন করে। বেস ডি লিডে অক্ষত ৭২ রান তৈরি করে এবং দুইটি উইকেট নেয়ার মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নামিবিয়া ১৫৬ রান ছয় ও আট উইকেটের সঙ্গে স্টেডিয়ামে পোস্ট করেছে, যা তাদের লক্ষ্যকে সীমিত করে। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারিয়ে দলটি মাঝপথে চাপের মুখে পড়ে, তবে জ্যান নিকোল লফটি-ইটন ৪২ রান করে একমাত্র উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
ডি লিডের দ্রুত গতি দিয়ে করা বোলিং আক্রমণ নামিবিয়ার স্কোরকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তিনি ২০ ওভারে দুইটি উইকেট নেন, আর লগান ভ্যান বেক তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে দুইটি উইকেট নেয়। উভয় বোলারই সীমিত স্কোরে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বাটিংয়ে ডি লিডের পারফরম্যান্স ততটাই চমকপ্রদ। ৪৮ বলের মধ্যে তিনি পাঁচটি চার এবং চারটি ছয় মারেন, ফলে অক্ষত ৭২ রান সংগ্রহ করেন। তার আক্রমণাত্মক স্টাইলের ফলে নেদারল্যান্ডস দ্রুত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১২ বল বাকি রেখে লক্ষ্য পূরণ করে।
ডি লিডের তৃতীয় উইকেট পার্টনারশিপে কলিন অ্যাকারম্যানের সঙ্গে ৭০ রান যোগ হয়। অ্যাকারম্যান ৩২ রান যোগ করে দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যা চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তি তৈরি করে। তাদের সমন্বিত খেলায় নেদারল্যান্ডসের শিকড় দৃঢ় হয়।
শেষে দলটির ক্যাপ্টেন স্কট এডওয়ার্ডস অক্ষত ১৮ রান যোগ করে ইনিংস শেষ করেন। এডওয়ার্ডসের স্থিতিশীলতা এবং ডি লিডের আক্রমণাত্মক শটের সমন্বয়ই নেদারল্যান্ডসকে লক্ষ্য অতিক্রমে সহায়তা করে, ফলে দলটি সহজে জয় নিশ্চিত করে।
এই জয় নেদারল্যান্ডসের টি২০ বিশ্বকাপে সর্ববৃহৎ উইকেট পার্থক্যের জয় হিসেবে রেকর্ড হয়। পূর্বে দলটি গ্রুপ এ-তে পাকিস্তানের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হালকা পরাজয় পেয়েছিল, তবে এই ম্যাচে ফিরে এসে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখায়।
ডি লিডে ম্যাচের পর বললেন, প্রথমে বলিং করা তাদের জন্য ভাগ্যবান ছিল, কারণ এতে মাঠের অবস্থার পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় এবং বোলিং ইউনিট দ্রুত সমন্বয় করতে পারল। তিনি দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও অভিযোজন ক্ষমতাকে প্রশংসা করেন।
ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ডস ডি লিডের দ্বিমুখী পারফরম্যান্সকে ‘সেন্সেশনাল’ বলে বর্ণনা করেন, যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তার মন্তব্যে ডি লিডের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকের সমন্বয়কে প্রশংসা করা হয়েছে।
নামিবিয়ার ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক উইকেট পতন দেখা যায়, যেখানে বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই দ্রুত আউট হয়ে যায়। জ্যান নিকোল লফটি-ইটন একমাত্র দীর্ঘ সময় টিকিয়ে ৪২ রান করেন, তবে তার পরেও দলটি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়।
নেদারল্যান্ডসের পরবর্তী ম্যাচে তারা গ্রুপের আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নামিবিয়ার জন্যও পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার এবং পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।



