25 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগাজীপুর ও আশেপাশের কারখানা বন্ধ, ভোটের জন্য কর্মী বাড়ি ফেরার পথে

গাজীপুর ও আশেপাশের কারখানা বন্ধ, ভোটের জন্য কর্মী বাড়ি ফেরার পথে

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলসহ টঙ্গি, চৌরাস্তা, কোণাবাড়ি ও শ্রীপুরে গার্মেন্ট কর্মীরা আজ সকালেই কারখানা বন্ধের পর গ্রামভূমিতে রওনা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারের নির্দেশে নেওয়া হয়েছে।

বন্দোবস্তের আওতায় গাজীপুর, টঙ্গি, চৌরাস্তা, কোণাবাড়ি ও শ্রীপুরের শিল্প ইউনিটগুলো বন্ধ করা হয়েছে, যাতে কর্মীরা ভোটের জন্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিল্প এলাকা থেকে রওনা হওয়া কর্মীর সংখ্যা হাজারের বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।

টঙ্গি, কোণাবাড়ি ও মাওনা বাস স্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইন গড়ে উঠেছে, যেখানে ঢাকা–ময়মনসিংহ, ঢাকা–কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে গাড়ি চলাচল জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরুষ ও নারীরাও ভিড়ের মধ্যে বাসের জন্য অপেক্ষা করছে, ফলে রাস্তায় গাড়ির গতি ধীর হয়ে গেছে।

মাওনা হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ জানান, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা অংশে সময়ে সময়ে ট্রাফিক জ্যাম দেখা গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, রওনা হওয়া কর্মীদের সংখ্যা এবং বাসের অতিরিক্ত চাহিদা এই জ্যামকে বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্মীদের প্রস্থানকে ঈদ ছুটির ভিড়ের মতো বর্ণনা করা হয়েছে; গাড়ি, বাস ও রিকশা একের পর এক চলাচল করছে, যেন উৎসবের সময়ের মত। এই সময়ে রাস্তায় গাড়ির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত রয়েছে।

হাইওয়ে বরাবর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কর্মীরা গাড়ি থামিয়ে, গাড়ি চালকদের নির্দেশনা দিয়ে জ্যাম কমানোর চেষ্টা করছে। তাদের উপস্থিতি রওনা হওয়া কর্মীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুরের গার্মেন্ট কর্মী রাহিমা বেগম বলেন, “বছরের পর বছর কাজের চাপ থাকে, তবে এই সময়ে পরিবারসহ ভোট দেওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও যাত্রা কঠিন, তবু বাড়ি ফিরে ভোট দিতে চাই।” তার কথায় ভোটের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

অন্য এক কর্মী, আবদুল করিম, জানান, “বাস স্ট্যান্ডে ভিড় বেশি, ভাড়া সাধারণের তুলনায় বেশি। তবু আমাদের দায়িত্ব হল ভোটের জন্য বাড়ি ফিরে যাওয়া।” তিনি অতিরিক্ত ভাড়া সত্ত্বেও ভোটের জন্য বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

কোণাবাড়ি নৌযাত্রা হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ সগৌতাল আলম জানান, এইবার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বেশি কঠিন, কারণ অনেক পুলিশ কর্মী নির্বাচন দায়িত্বে ব্যস্ত। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ছুটির সময়ে শত শত পুলিশ কর্মী হাইওয়ে তদারকি করে, কিন্তু এবার সংখ্যা কমে গিয়ে সীমিত মানবসম্পদে কাজ চালাতে হচ্ছে।

সাধারণত দীর্ঘ ছুটির দিনে হাইওয়ে তদারকি করার জন্য প্রচুর পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়, যা ট্রাফিকের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দায়িত্বের কারণে এইবার তদারকি কর্মী কমে গিয়ে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে।

কর্মীদের এই বৃহৎ রওনা ভোটের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। গার্মেন্ট শিল্পের বড় সংখ্যক কর্মী ভোটের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক চাহিদা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের দিন নাগাদ কর্মীদের বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গৃহীত হবে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চলতে পারে। সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয় এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments