ইতালিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের ফিগার স্কেটিং টিম ইভেন্টের সমাপনীতে ৩৮ বছর বয়সী ফরাসি কোচ ও কোরিওগ্রাফার বেনোয়েট রিশোডকে মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যে দুইটি ভিন্ন জাতীয় দলের জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা যায়। তিনি ১৬টি স্কেটারকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যাদের দেশ সংখ্যা মোট ১৩টি, যা এই অলিম্পিকে একাধিক দেশের ক্রীড়াবিদকে একসাথে পরিচালনা করার বিরল উদাহরণ তৈরি করেছে।
রিশোডের কোচিং তালিকায় জর্জিয়ার নিকা এগাদজে এবং কানাডার স্টিফেন গোগোলেভ সহ আরও বেশ কিছু তরুণ প্রতিভা অন্তর্ভুক্ত। তিনি শুধু প্রশিক্ষণই নয়, প্রতিটি স্কেটারের পারফরম্যান্সের জন্য চোরিওগ্রাফি ডিজাইনও করেন, ফলে তার কাজের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। অলিম্পিকের টিম ইভেন্টের চূড়ান্ত রাউন্ডে তিনি প্রথমে জর্জিয়ার দলীয় জ্যাকেট পরিধান করে এগাদজের পারফরম্যান্সকে উৎসাহিত করছেন দেখা যায়।
প্রায় পনেরো মিনিটের মধ্যেই ক্যামেরা আবার রিশোডকে ধরতে সক্ষম হয়, এবার তিনি কানাডার দলীয় জ্যাকেট পরিধান করে গোগোলেভের স্কেটিংকে সমর্থন করছেন। দুইটি ভিন্ন দেশের জ্যাকেটের দ্রুত পরিবর্তনটি দর্শকদের মধ্যে তৎক্ষণাৎ আলোড়ন সৃষ্টি করে, কারণ সাধারণত কোচরা একক দেশের প্রতিনিধিত্বকারী জ্যাকেটই পরিধান করেন।
রিশোড এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন যে অলিম্পিকের সময়সূচি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলে এবং তা পরিচালনা করা সহজ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিটি স্কেটারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে আবেগের ওঠানামা হয়; একজন ভাল করলে অন্যজনের চাপ কমে, আর বিপরীত হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।” এই ধরনের মানসিক চাপে কোচের ভূমিকা শুধু কৌশলগত নয়, বরং মানসিক সমর্থনেও পরিণত হয়।
তিনি আরও জানান যে স্কেটারদের পারফরম্যান্স একে অপরের পরপর না হওয়ায় তিনি কিছুটা স্বস্তি বোধ করেন। “যদি দুজন একসাথে পারফর্ম করতে হতো, তবে আবেগের ভার বহন করা আরও কঠিন হতো,” তিনি মন্তব্য করেন। এই বিষয়টি কোচের জন্য সময়মতো জ্যাকেট পরিবর্তন এবং মনোভাব সামঞ্জস্য করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।
দর্শক ও মিডিয়া রিশোডের জ্যাকেটের পরিবর্তনকে হাস্যকরভাবে লক্ষ্য করে, “সবসময় কালো জ্যাকেটই দেখেছি, এখন দু’টি রঙে দেখছি” এমন মন্তব্য করে। কোচের এই বহুমুখী উপস্থিতি অলিম্পিকের আন্তর্জাতিক পরিবেশের এক বিশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দ্রুত জ্যাকেট পরিবর্তনের পেছনে লজিস্টিক্সের জটিলতা রয়েছে। রিশোড জানান, তিনি সাধারণত স্কেটারদের ড্রেসিং রুমে নিজের সামগ্রী রাখেন এবং সেখানে অনুমতি পেয়ে কিছু সরঞ্জাম সংরক্ষণ করেন। “এটা সবই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের ফল,” তিনি বলেন, যা কোচকে দ্রুত সাপোর্ট প্রদান করতে সহায়তা করে।
কোচের এই বহুমুখী কাজের জন্য স্কেটারদের ড্রেসিং রুমে প্রবেশের অনুমতি প্রয়োজন, যা সাধারণত সীমিত থাকে। তবে রিশোডের ক্ষেত্রে দলগুলো তাকে স্বাগত জানায় এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার সুযোগ দেয়, ফলে তিনি দ্রুত জ্যাকেট পরিবর্তন এবং স্কেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন।
বহু দেশের ক্রীড়াবিদকে একসাথে কোচিং করা রিশোডের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদাহরণও বটে। তিনি উল্লেখ করেন, “এমন অভিজ্ঞতা আমাকে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়,” যা ভবিষ্যতে তার ক্যারিয়ারের জন্য মূল্যবান সম্পদ হবে।
টিম ইভেন্টের সমাপ্তির পর স্কেটারদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে অংশগ্রহণের সময়সূচি দ্রুত এগিয়ে যাবে। নিকা এগাদজে এবং স্টিফেন গোগোলেভ উভয়েই পরবর্তী দিনগুলোতে একক পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবং রিশোডের সমর্থন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অলিম্পিকের পরবর্তী রাউন্ডে এই দুই স্কেটার কীভাবে পারফর্ম করবে তা শীঘ্রই প্রকাশ পাবে।
সারসংক্ষেপে, বেনোয়েট রিশোডের দ্রুত জ্যাকেট পরিবর্তন এবং একাধিক দেশের ক্রীড়াবিদকে একসাথে কোচিং করা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের ফিগার স্কেটিং ইভেন্টে একটি অনন্য দৃশ্য তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিবেশের বৈচিত্র্য ও চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।



