27 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা‑বিজিবি‑পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা‑বিজিবি‑পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন

সিরাজগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের দূরবর্তী চরাঞ্চলে ভোটের নিরাপত্তা বজায় রাখতে নির্বাচন পূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং পুলিশ একত্রে অস্থায়ী ক্যাম্প গঠন করেছে। ক্যাম্পে নিয়োজিত কর্মীরা ভোটের আগে ও পরে ভোটকেন্দ্র, ভোটার এবং ভোটের সরঞ্জামের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবে। এই ব্যবস্থা জেলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

চৌহালী উপজেলায়, যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত তিনটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে। ওমরপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০ জন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২০ জন সদস্য ক্যাম্পে অবস্থান করবে, আর অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২১ জন পুলিশ মোবাইল টিম হিসেবে কাজ করবে। একই উপজেলায় ঘোরজান ও স্থল ইউনিয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৫ জন সদস্য ক্যাম্পে থাকবে, এবং ছয়জন পুলিশ মোবাইল টিমের অংশ হিসেবে তৎপর থাকবে। চৌহালী উপজেলায় মোট ৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পূর্বে অপরাধ প্রবণতা দেখা ১৩টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কাজিপুর উপজেলায়, যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ছয়টি ইউনিয়নে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০০ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নে ৪০ জন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্য এবং দুইটি দল, প্রত্যেকটি ৬০ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্য, চরগিরিস ও মনসুরনগর ইউনিয়নে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও মোবাইল টিমের মাধ্যমে তৎপর থাকবে।

শাহজাদপুর উপজেলায়, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সোনাতনী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ৩০ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্য ক্যাম্পে অবস্থান করছে। এখানে পুলিশ সদস্যরাও মোবাইল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা তদারকি করবে। মোট ১৬০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে আটটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬,৮৬,৮৫৮। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ৯২৩টি ভোটকেন্দ্র ব্যবহার করা হবে, যার মধ্যে ১৭৮টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ২৮১টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং অবশিষ্ট ৪৬৪টি ‘সাধারণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। এই বিভাজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত সেনা ও বর্ডার গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।

প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, অস্থায়ী ক্যাম্পের মাধ্যমে ভোটের সময় কোনো অনিয়ম বা হিংসা ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। ক্যাম্পে মোবাইল টিমের উপস্থিতি জরুরি পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়তা করবে। নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণে আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জে ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সব সংস্থার সমন্বিত কাজের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেও ক্যাম্পগুলোকে পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত চালু রাখা হবে, যাতে ভোটের পরবর্তী কোনো বিরোধ বা অশান্তি দ্রুত সমাধান করা যায়। এই পদক্ষেপগুলো দেশের সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments