ডেভিড ময়েসের তত্ত্বাবধানে এভারটন দলটি লন্ডন থেকে লিভারপুলের পথে ফ্লাহমের বিপক্ষে ২-১ জয় অর্জনের পর ভক্তদের সঙ্গে একই ট্রেনে ফিরে আসেন। গেমের শেষে ভক্তদের উল্লাসে ভরপুর ট্রেনটি পুরনো ফুটবল-স্পেশাল ট্রেনের মতো শোনায়, যেখানে পুরো যাত্রা জুড়ে গানের সুরে গর্জন শোনা যায়। এভারটনীয়রা বিজয়কে উদযাপন করতে গিয়ে ভ্রমণকে একধরনের পার্টি মঞ্চে রূপান্তরিত করে, যা দলের মনোবলকে ত্বরান্বিত করেছে।
ট্রেনের দ্বিতীয় কারেজে বসে ময়েস ও তার খেলোয়াড়রা জয়ের সুরে মেতে উঠেন এবং পুরো যাত্রা জুড়ে উল্লাসের শব্দ শোনেন। “ট্রেনে ফিরে আসা সময়টা চমৎকার ছিল, কারণ আমরা জানতাম এর মানে কী,” ময়েস গর্বভরে বলেন। তিনি যোগ করেন, “যদি আপনি দূরবর্তী সমর্থক হন এবং গেমে টাকা ও সময় বিনিয়োগ করেন, দল যখন ফলাফল দেয় তখন তা এক অনন্য আনন্দ।”
ময়েসের মতে, দূরবর্তী সমর্থকদের উল্লাসের শক্তি গৃহমাঠের সমর্থকদের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে গৃহমাঠের সমর্থকদেরও একই মাত্রার উত্সাহ দিতে হবে। “আমাদের কাজ হল এভারটনীয়দের জন্য কিছু চিৎকারের কারণ তৈরি করা, এবং দূরবর্তী সমর্থকদের মতো গৃহমাঠের সমর্থকদেরও ততটাই উৎসাহ দিতে হবে,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।
ফুলহ্যামের বিপক্ষে ২-১ জয় এভারটনের এই মৌসুমের ছয়টি দূরবর্তী জয়ের মধ্যে একটি, যা দলকে প্রিমিয়ার লিগে অগ্রগতি করতে সহায়তা করেছে। ময়েসের জানুয়ারি ২০২৫ থেকে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এভারটন ২২টি দূরবর্তী ম্যাচের মধ্যে ১১টি জিতেছে, যা পূর্বের তিন-অর্ধ বছর সময়ের তুলনায় এক বেশি। এই রেকর্ড দলকে দূরবর্তী মাঠে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
দূরবর্তী জয়ের ধারাবাহিকতা গৃহমাঠে একই রকম নয়। এভারটন নতুন হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে ১২টি লিগ ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারটি জিতেছে, এবং সর্বশেষ জয় নটিংহাম ফরেস্টের বিরুদ্ধে ৬ ডিসেম্বরের পর থেকে কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি। গৃহমাঠে ধারাবাহিক জয় না পেয়ে দলটি হোম ফরমে সমস্যার মুখোমুখি।
ব্রেন্টফোর্ড, উলভস এবং লিডসের মতো শক্তিশালী দলগুলো গৃহমাঠে আসার পরেও এভারটন তাদের প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে পারেনি। এই ম্যাচগুলোতে দলটি প্রতিপক্ষের আক্রমণকে সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গৃহমাঠের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। ফলে ভক্তদের মধ্যে গৃহমাঠে জয়ের প্রত্যাশা কমে গিয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের ম্যাচে উন্নতি করছে এমন বোর্নমাউথের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া এভারটনের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বোর্নমাউথের আক্রমণাত্মক শৈলী এবং সাম্প্রতিক ফর্মের উন্নতি এভারটনের গৃহমাঠের দুর্বলতাকে চ্যালেঞ্জ করবে। ময়েস এই ম্যাচকে গৃহমাঠে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
ময়েসের মতে, গৃহমাঠ ও দূরবর্তী ফরমের মধ্যে পার্থক্য কেবল কৌশলগত নয়, বরং মানসিক দিক থেকেও উদ্ভূত। দূরবর্তী ম্যাচে খেলোয়াড়রা ভক্তদের সমর্থন ও উল্লাসের মাধ্যমে অতিরিক্ত শক্তি পায়, যা গৃহমাঠে ততটা অনুভব হয় না। তিনি গৃহমাঠের পরিবেশকে আরও উচ্ছ্বাসপূর্ণ করতে ভক্তদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
দূরবর্তী জয়ের ইতিবাচক শক্তিকে গৃহমাঠে স্থানান্তর করার জন্য ময়েস দলকে প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা ট্রেনে অনুভব করা উল্লাসকে স্টেডিয়ামের চারপাশে নিয়ে আসতে পারি, তবে গৃহমাঠে জয় অর্জন করা সহজ হবে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
এভারটনের গৃহমাঠের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য ক্লাবের ব্যবস্থাপনা এবং খেলোয়াড়দের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভক্তদের সমর্থন, প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা এবং কৌশলগত পরিবর্তন একসাথে গৃহমাঠে ফলাফল উন্নত করতে পারে। ময়েসের নেতৃত্বে দলটি গৃহমাঠে ধারাবাহিক জয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে।
সারসংক্ষেপে, এভারটন দূরবর্তী মাঠে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে গর্বিত, তবে গৃহমাঠে ধারাবাহিক জয় অর্জনে এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। ময়েসের পরিকল্পনা ও ভক্তদের সমর্থন মিলিয়ে গৃহমাঠের দুর্বলতা দূর করা সম্ভব হবে, এবং আগামী বোর্নমাউথের সঙ্গে ম্যাচটি সেই পরিবর্তনের সূচক হতে পারে।



