শুক্রবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণসংযোগে উপস্থিত হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোটারদের আহ্বান জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে আসা কিছু ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং সেই সময় তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, ফলে বাড়িগুলো লুটপাটের শিকার হয়েছিল।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি তাজা করে তুলেছেন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষকে বাড়ি ছেড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হতো এবং পাকিস্তানের দমন নীতি থেকে মুক্তি পেতে লড়াই করতে হতো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি, কোথাও যাবো না” এবং দেশের সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, যদি দলটি ক্ষমতায় আসে তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি হিন্দু ভাইবোনদের ভয় দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “এই দেশটা আপনার, এই দেশের মাটিটা আপনার। একজন মুসলমানের যে অধিকার আছে, ঠিক তেমনি আপনাদেরও একই অধিকার আছে।” এভাবে তিনি সমান অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা দেন।
আসন্ন নির্বাচনে মির্জা ফখরুল থাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে “ধানের শীষ” প্রতীকে ভোটের আহ্বান জানিয়ে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। একই আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন “দাঁড়িপাল্লা” প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোঃ খাদেমুল ইসলাম “হাতপাখা” প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মির্জা ফখরুলের মতে, “ধানের শীষের লোকেরা আপনাদের পাশে অতীতেও ছিলাম, এখনো থাকবো ইনশাআল্লাহ” এবং তিনি ভোটারদেরকে এই প্রতীকে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন।
বিএনপি মহাসচিবের বক্তৃতায় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভয়কে “একটা আতঙ্ক” বলে উল্লেখ করে বলেন, “যদি আমরা অন্য কাউকে ভোট দিই, তাহলে ওরা যদি আমাদের ক্ষতি করে” এবং এ বিষয়ে ভোটারদেরকে সতর্ক করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই” এবং ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তিনি পরিবার, কৃষি, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা তিনি “আইনশৃঙ্খলার কথা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ভোটারদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা দরকার।
বিএনপি মহাসচিবের এই গণসংযোগের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদেরকে স্বাধীনতার ইতিহাস ও বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করে “ধানের শীষ” প্রতীকে সমর্থন করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া। তিনি শেষ পর্যন্ত বললেন, “ভোট দিয়ে যারা আমরা স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলি, আমরা আপনার পাশে থাকব” এবং নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



