চীনের শানডং প্রদেশের একটি সোনার খনিতে শনিবার ঘটিত দুর্ঘটনায় সাতজন শ্রমিকের প্রাণ ত্যাগ করে। ঘটনাটি খনির একটি টানেল পথে একটি লোডিং ক্যাজের অচল অবস্থার ফলে ঘটেছে বলে জানা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সিসিটিভি রেকর্ডে দেখা যায়, টানেল ভেতরে ক্যাজটি হঠাৎ নেমে এসে শ্রমিকদের ওপর ধসে পড়ে। ক্যাজের পতনই সরাসরি মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ফুটেজটি রোববার রাতে প্রকাশিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে বাধ্য করে।
দুর্ঘটনার পর জরুরি ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তা বিভাগগুলো মূল কারণ অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য তথ্য গোপন করার প্রচেষ্টা আছে কিনা তা যাচাই করছে। তদন্তের আওতায় নিরাপত্তা প্রোটোকল, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত।
খনির মালিকানা ঝাওজিন মাইনিং ইন্ডাস্ট্রির হাতে, যা চীনের শীর্ষ সোনার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর একটি। দুর্ঘটনার পর বাজারে শেয়ার মূল্যের তীব্র পতন লক্ষ্য করা যায়; মঙ্গলবার শেয়ার মূল্যে প্রায় ছয় শতাংশের বেশি হ্রাস রেকর্ড হয়েছে। এই হ্রাসটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বেগের প্রতিফলন।
ঝাওজিন মাইনিং ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র তদন্ত চলাকালীন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন, ফলে কোম্পানির অবস্থান স্পষ্ট হয়নি। এই ধরনের নীরবতা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয় এবং শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অতিরিক্ত সতর্কতা সৃষ্টি করে।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় নতুন চন্দ্রবর্ষের ছুটির আগে একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজন করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নির্ধারণ করেছে। বৈঠকে খনি, রাসায়নিক কারখানা এবং অন্যান্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পের তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। লক্ষ্য হল নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোরতা বৃদ্ধি এবং পুনরাবৃত্তি রোধ করা।
এদিকে, একই সপ্তাহে চীনের উত্তরাঞ্চলে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই দু’টি ঘটনার ধারাবাহিকতা শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে এবং সরকারকে ত্বরিত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সোনার খনি শিল্পে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা শেয়ার মূল্যে তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন কোম্পানিগুলো বড় পরিমাণে ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। ঝাওজিনের শেয়ার পতন অন্যান্য সোনার খনি কোম্পানির স্টকেও প্রভাবিত করতে পারে, ফলে সেক্টরের সামগ্রিক বিনিয়োগ আকর্ষণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
দীর্ঘমেয়াদে, চীনের সরকার যদি নিরাপত্তা তদারকি বাড়ায় এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োগ করে, তবে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, তবে দুর্ঘটনা কমে যাবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল পুনর্বিবেচনা করা এবং নিরাপত্তা রেকর্ড শক্তিশালী এমন কোম্পানিতে পুঁজি বিনিয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, শানডং সোনার খনির দুর্ঘটনা শ্রমিক নিরাপত্তা, কোম্পানি শেয়ার মূল্য এবং শিল্পের নিয়ন্ত্রক পরিবেশে তীক্ষ্ণ প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে কঠোর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শিল্পের স্থায়িত্ব ও বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি হবে।



