বাংলাদেশের ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ পুলিশ প্রায় ২৪,০০০ ভোটকেন্দ্রকে উচ্চ বা মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মোট ৪২,৭৭৯ ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি এই শ্রেণিতে পড়ে, যা নির্বাচন সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।
ইনস্পেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) বহারুল আলম আজ মধ্যাহ্নে বাংলাদেশ পুলিশের কেন্দ্রীয় কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দেহ ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে যাতে ঘটনাবলী রেকর্ড করা যায়।
প্রাথমিকভাবে, ৮,৭৭০ ভোটকেন্দ্রকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, প্রায় ১৬,০০০কে মধ্যম এবং আর প্রায় ১৬,০০০কে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই বিভাজন চূড়ান্ত নয়; প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন হতে পারে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম স্তরে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী পুলিশ দল মোতায়েন করা হবে, দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রের বাইরে চলাচলকারী মোবাইল পেট্রল দল থাকবে, আর তৃতীয় স্তরে জরুরি অবস্থায় তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের জন্য স্ট্রাইকিং ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
এই পরিকল্পনা গঠন করা হয়েছে পূর্বের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ এবং বাংলাদেশ সরকার ও গৃহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বিবেচনা করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই সব দিককে সমন্বিত করা হয়েছে।
নির্বাচন নিরাপত্তার জন্য মোট ১,৫৭,৮০৫ পুলিশ কর্মী নিয়োজিত হবে। এদের মধ্যে ৯৩,৩৯১জন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করবেন, আর বাকি কর্মীরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ইউনিটে কাজ করবেন।
অতিরিক্তভাবে, পুলিশ স্টেশন এবং অন্যান্য ইউনিট থেকে ২৯,৭৯৮জন কর্মী নির্বাচনী সহায়তা প্রদান করবেন, যার ফলে মোট নিয়োগকৃত কর্মীর সংখ্যা ১,৮৭,৬০৩ে পৌঁছাবে। এই বৃহৎ মানবসম্পদ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তিগত সহায়তাও পরিকল্পনার একটি মূল অংশ। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০-৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দেহ ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, এবং যেখানে সক্ষমতা ও প্রয়োজন হবে সেখানে সুপারিনটেন্ডেন্টরা ড্রোন পরিচালনা করবেন।
অস্ত্র সংক্রান্ত ব্যবস্থা হিসেবে, গৃহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২৭,০০৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র পুলিশ স্টেশনে জমা রাখা হয়েছে। তবে চুরি হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের উপস্থিতি এখনও উদ্বেগের বিষয়।
আইজিপি জানান, বর্তমানে ১,০০০টিরও বেশি চুরি হওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১,৩৩০টি এখনও পুনরুদ্ধার হয়নি। শেরপুরে একটি শটগান উদ্ধার হওয়ার পর এই সংখ্যা এক কমে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক তথ্য সংগ্রহে সময় লাগবে, কারণ অস্ত্রের অবৈধ প্রবাহ এখনও চলমান।
নির্বাচন নিরাপত্তা পরিকল্পনা চলমান পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলা করা হবে, এবং প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়ে যাবে।



