ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের শৌচাগারে ৭০ বছর বয়সী দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক আলী মাহমুদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার সকাল প্রায় নয়টায় জানানো হয়, এবং স্থানীয় পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দেহটি উদ্ধার করে।
শাহবাগ থানা ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, দেহটি পাওয়া যাওয়ার পরপরই শৌচাগারের দরজা ভেঙে পরিবারসহ উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, আলী মাহমুদ গতকালই প্রেস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন, তবে শৌচাগরে প্রবেশের পর থেকে আর বের হননি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় আলী মাহমুদ ক্লাবের ভিতরে কাজ শেষ করে শৌচাগরে গিয়েছিলেন এবং সেখানে অচেনা অবস্থায় পাওয়া যায়। শৌচাগরের দরজা ভাঙার সময় দেহটি অবচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, নাক ও মুখ থেকে রক্তপাতের চিহ্ন দেখা যায়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে স্ট্রোকের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের জন্য মেডিকেল পরীক্ষা বাকি রয়েছে। দেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
আলী মাহমুদের পরিবারে স্ত্রী জেসমিন আরা, দুই ছেলে ও এক মেয়ে অন্তর্ভুক্ত। তার স্ত্রীর মতে, রাতের শেষ ভাগে আলী বাড়ি ফিরেননি, ফলে উদ্বেগ বাড়ে। সকালে তিনি এবং তার পরিবার প্রেস ক্লাবে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন, যেখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানায় শৌচাগরে দেহটি পাওয়া গেছে।
মৃতদেহের অটোডক্স (ময়নাতদন্ত) করা হবে কিনা তা পরিবারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ওসি মনিরুজ্জামান জানান, পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তে এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
আলী মাহমুদ জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের স্থায়ী সদস্য ছিলেন। তাছাড়া তিনি বিএনপি মিডিয়া সেলেরও সদস্য ছিলেন, যা তার রাজনৈতিক সংযোগকে নির্দেশ করে।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিক সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দৈনিক দিনকালসহ বিভিন্ন মিডিয়া হাউসের সহকর্মীরা আলীকে ‘সাদাসিধে’ এবং ‘ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট’ হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি সর্বদা মাঠে কাজ করতেন।
ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া প্রত্যেকেই শোক বার্তা প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরীও আলী মাহমুদের মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে আত্মার শান্তি ও পরিবারের ধৈর্যের প্রার্থনা করেছেন।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শৌচাগরের দরজা ভাঙার পদ্ধতি, দেহের অবস্থান ও রক্তপাতের বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অপরাধমূলক দিক নির্ণয় করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



