27 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচনের পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য

ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচনের পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালবেলায় নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করে, যেখানে তিনি ভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দেশের সম্ভাব্য অবস্থা বিশ্লেষণ করেন। পোস্টে তিনি দুইটি ভিন্ন রাজনৈতিক দৃশ্যপট তুলে ধরেন – জামায়াত-এ-ইসলামি ক্ষমতায় আসলে কী হতে পারে এবং অন্য কোনো দল শাসন করলে কী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

সাদ্দাম উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি সরকার গঠিত হলে সারাদেশে জনগণকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ শুকরানা নামাজের আয়োজন হবে। তিনি বলেন, সরকারি অফিস ও আদালতে ঘুষ‑মুক্ত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত হবে, বিদ্যমান সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে যাবে এবং দ্রব্যমূল্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হবে। এছাড়া, তিনি দাবি করেন, মহিলারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন এবং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, দখলদারি ও দুর্নীতি মত অবৈধ কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে।

প্রস্তাবিত নীতিগুলোর মধ্যে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারী সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের লালসা‑সুদ না রেখে সব কাজ সম্পন্ন হবে। মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজারে অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ওপর কঠোর নজরদারি করা হবে। তদুপরি, নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা হবে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে।

অন্যদিকে, সাদ্দামের পোস্টে অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এলে কী ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, তা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই রাস্তায় গতি বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিজয় মিছিলের আয়োজন হবে, যা জনসাধারণের চলাচলকে প্রভাবিত করবে। এছাড়া, বিরোধী মতের ওপর আক্রমণ, বাড়িঘর ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং ঘুষের ছড়াছড়ি বাড়বে বলে তিনি পূর্বাভাস দেন।

মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন; তিনি উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে মা‑বোনেরা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। তদুপরি, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, মাদক ব্যবসা এবং সরকারি টেন্ডার চুক্তিতে অনিয়মের সম্ভাবনা বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন। এসব ঘটনার ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।

পোস্টের শেষে সাদ্দাম পাঠকদের একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “কেমন দেশ দেখতে চান? এখন সিদ্ধান্ত আপনারই হাতে।” তিনি ভোটারদেরকে আহ্বান জানান, যেন তারা নিজেরা ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এই প্রশ্নটি তার পোস্টের মূল বার্তা হিসেবে কাজ করে, যেখানে তিনি নাগরিকদেরকে রাজনৈতিক দায়িত্বের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। দেশব্যাপী ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালু থাকবে। এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর নীতি-প্রস্তাবের তুলনা করার সুযোগ দেবে।

নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য ও পরিকল্পনা জনমত গঠনে প্রভাব ফেলছে। সাদ্দামের পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের দল ও জামায়াত-এ-ইসলামির নীতি-দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে তুলেছেন, পাশাপাশি অন্য দল শাসন করলে সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেছেন। ভোটারদের জন্য এই দুইটি দৃশ্যপট তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments