27 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআইজিপি বাহারুল আলম ঘোষণা: ১৩তম সংসদ নির্বাচনের জন্য বিশাল নিরাপত্তা পরিকল্পনা

আইজিপি বাহারুল আলম ঘোষণা: ১৩তম সংসদ নির্বাচনের জন্য বিশাল নিরাপত্তা পরিকল্পনা

১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সর্বকালের সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশদ নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনকে ইতিহাসের নিরাপদ উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আইজিপি বলেন, পূর্বে হুমকি সৃষ্টি করা ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী এখন নিষ্ক্রিয় এবং তাদের কোনো হুমকি আর নেই; তাই এখন আর কোনো বাহ্যিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তিনি এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে রাখতে চান।

বাহারুল আলম উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা গঠন করতে অতীতের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন অংশীদার ও সরকারের নির্দেশনা, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইনকে ভিত্তি করা হয়েছে। এসব উপাদানকে সমন্বিত করে একটি সমগ্রিক কৌশল তৈরি করা হয়েছে।

সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে প্রথম ধাপ হিসেবে দেশের ৪২,৭৮৯টি ভোটকেন্দ্রের জন্য স্থির পুলিশ দল গঠন করা হবে। এই স্ট্যাটিক ফোর্সগুলো ভোটের দিন পুরোপুরি উপস্থিত থাকবে এবং কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।

এর পাশাপাশি, ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দলগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে, আর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে। এই বহুমুখী কাঠামো ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়াতে, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই নজরদারি ব্যবস্থা ভোটের সময় কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ পুলিশ আরও জানিয়েছে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে পুলিশ কর্মীর কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে রেকর্ড করা যায়। এই পদক্ষেপটি ভোটার ও কর্মীর নিরাপত্তা দুটোই নিশ্চিত করবে।

জেলায় পুলিশ সুপারintendents তাদের সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবেন; এ ধরনের এয়ারবর্ন নজরদারি বিশেষ করে দূরবর্তী বা কঠিন প্রবেশযোগ্য এলাকায় কার্যকর হবে।

মোট ১,৫৭,৮০৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত করা হবে। এর মধ্যে ৯৩,৩৯১ জন স্থির ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের রক্ষায় থাকবে, আর অবশিষ্ট সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।

অতিরিক্তভাবে, ২৯,৭৯৮ জন পুলিশ সদস্য থানা ও অন্যান্য ইউনিট থেকে সহায়তা প্রদান করবেন, যাতে জরুরি সেবা ও লজিস্টিক্সের প্রয়োজন মেটানো যায়। এই সহায়তা দলগুলো ভোটের দিন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হবে।

সর্বমোট মোতায়েনের সংখ্যা প্রায় ১,৮৭,০০০ এর কাছাকাছি, যা দেশের নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা হিসেবে বিবেচিত। এই বিশাল মানবসম্পদ ভোটের সময় কোনো অশান্তি বা হিংসা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে উপস্থিত কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি; তাদের প্রতিক্রিয়া ও মতামত পরবর্তীতে জানানো হবে।

বাহারুল আলমের এই ঘোষণার মাধ্যমে সরকার ও বাংলাদেশ পুলিশ ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।

আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এই নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে চলবে, এবং ভোটের দিন পর্যন্ত সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments