১৯ দিনের তীব্র র্যালি, ম্যানিফেস্টো প্রতিশ্রুতি এবং ঘন ঘন দরবারি সফরের পর আজ সকাল ৭:৩০ টায় সরকারী প্রচারকাল শেষ হয়েছে। পার্লামেন্টারি ইলেকশন কোড অফ কন্ডাক্টের বিধান অনুসারে ভোটের দুই দিন আগে সব ধরনের প্রচার বন্ধ করা বাধ্যতামূলক। এই মুহূর্তে দেশভরেই ভোটের জন্য প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হচ্ছে।
সরকারি প্রচারকাল ২২ জানুয়ারি, নির্বাচনী প্রতীক বণ্টনের পরপরই শুরু হয়। নির্বাচনী চিহ্নের বণ্টন শেষ হওয়ার পরই দল ও প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করে। কোডের অধীনে প্রচার বন্ধের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যাতে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
প্রচারকাল জুড়ে প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা জুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। গ্রাম-গ্রাম, শহর-শহরে গিয়ে তারা ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। এই ব্যাপক সফর ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি বাড়াতে লক্ষ্য ছিল।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শেষ রাউন্ডের প্রোগ্রাম হিসেবে চাঁদ্রিমা উদ্যানের তার পিতামাতার সমাধিস্থলে রাতের প্রার্থনা সম্পন্ন করেন। এই সমাপনী অনুষ্ঠানটি পার্টির সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের সমবেত আচার হিসেবে দেখা হয়েছে। তারেক রহমানের এই শেষ পদক্ষেপটি পার্টির ঐতিহ্যবাহী রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমানও ফজরের নামাজের পর ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে তার প্রচার সমাপ্ত করেন। তিনি সমাবেশের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে শেষবারের মতো মতবিনিময় করেন এবং ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশের আহ্বান জানান।
ভোটদান বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকাল ৪:৩০ টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গোপনীয়ভাবে ভোট দেবেন। ভোটের দিন পুরো দেশ জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।
১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম মোট ২৯৯টি নির্বাচন এলাকায় স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ও ব্যালট পেপার ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও সংসদে ৩০০টি আসন রয়েছে, শেরপুর-৩ এলাকার ভোট বাতিল করা হয়েছে এক জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে। এই বাতিলকরণ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
ইলেকশন কমিশন গত বছর ১১ ডিসেম্বর ভোটের সময়সূচি প্রকাশ করে, যেখানে ভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। একই সঙ্গে জাতীয় চার্টার (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের রেফারেন্ডামও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই সমন্বয় ভোটারদের একসাথে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করবে।
ভোটের দিন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইলেকশন কমিশন গাড়ি চলাচলে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে এবং অপ্রয়োজনীয় গতি সীমিত করা হবে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে রাত ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত, যা ২৭ জানুয়ারি ইস্যু করা নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। এই পদক্ষেপটি ভোটের দিন গাড়ি-যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমাতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
ভোটের দিন ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সি এবং মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের চলাচল ২৪ ঘণ্টা স্থগিত থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা করবে এবং নির্বাচনী এলাকায় অশান্তি রোধ করবে।
এছাড়া ভোটের দিনে নৌকা-নৌযান চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনী কেন্দ্রের নিকটে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে, যাতে ভোটের সময় কোনো অনিয়ম না ঘটে।
প্রার্থী বা সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো ক্যাম্প বা প্রচারমূলক কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। এই দূরত্বের নিয়ম ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং ভোটারদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটের ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গণনা হয়ে প্রকাশিত হবে, যা সরকারী ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্ধারণ করবে। ফলাফল ঘোষণার পর পার্লামেন্টে গঠিত হবে নতুন সরকার, যা দেশের নীতি ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে রেফারেন্ডামের ফলাফলও জাতীয় চার্টারের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



