নির্বাচন দিন কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-৬ আসনে রাজনৈতিক উন্মাদনা বাড়ছে। পুরনো ঢাকার সুত্রাপুর, ওয়ারী ও গেনদারিয়ার সংকীর্ণ গলিতে জোয়ার-ঝোয়ার মতো প্রচারভ্রমণ, স্লোগান ও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। ভোটাররা দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করে ভোটের দিকে তাকিয়ে আছে।
ঢাকা-৬-এ ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ থেকে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ওয়ারী, গেনদারিয়া, সুত্রাপুর এবং কোতওয়ালী থানার কিছু অংশ রয়েছে। এই এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সদরঘাট, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, আহসান মঞ্জিল, জয়কালী মন্দির, বালধা গার্ডেন, আসগার আলি মেডিকেল কলেজ, নারিন্দা ও ধূপখোলা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবস্থিত।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, আসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর মধ্যে। উভয় পার্টি এই এলাকায় দীর্ঘদিনের অবহেলাকে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন, প্রাক্তন ঢাকা মেয়র ও মুক্তিযোদ্ধা শ্রী সাদেক হোসেন খোকার পুত্র, পূর্বে মেয়র প্রার্থনা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ক্যাম্পেইন বড় জোয়ার-ঝোয়ার, র্যালি ও সমাবেশের মাধ্যমে চলমান।
জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী আবদুল মান্নান, প্রাক্তন ছাত্র নেতা ও ঢাকা সিটি সাউথ জামায়াতের সহকারী সচিব, গৃহে গৃহে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। তার প্রচারধারা বেশি সংগঠিত ও দরজায় দরজা করে।
স্থানীয় মানুষদের মতে, ইশরাক হোসেনের জনপ্রিয়তা তার পূর্ববর্তী মেয়র প্রার্থী হিসেবে কাজ এবং তরুণ নেতা হিসেবে তার চিত্রের কারণে বেশি। তার সমাবেশে বড় ভিড় দেখা যায়। অন্যদিকে, মান্নান গৃহভিত্তিক প্রচারে বেশি জোর দিচ্ছেন।
বৈধ ভোটাররা গ্যাস ও পানির ঘাটতি, পুরনো ঢাকার সংকীর্ণ রাস্তা, সায়েদাবাদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ট্রাফিক জ্যাম, বুরিগঙ্গা নদীর ধারে পরিবেশ দূষণ ও অনধিকার দখলকে প্রধান সমস্যারূপে উল্লেখ করছেন। এছাড়া বর্জ্য নিষ্পত্তি ও স্যানিটেশন সমস্যাও ভোটারদের উদ্বেগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রবক্তা কুমার সুর উল্লেখ করেন, পুরনো ঢাকার বাসিন্দারা বহু বছর ধরে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। গ্যাস ও পানির সমস্যার সমাধান দশকেরও বেশি সময় ধরে অগ্রসর হয়নি।
তিনি আরও বলেন, রাস্তা চওড়া না হওয়ায় যানজট অবিরাম, ধুলো ও আবর্জনা পরিবেশকে দূষিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সত্যিকারের ইচ্ছা রাখেন তবে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।
সুরের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা প্রচুর প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তা বাস্তবে কমই দেখা যায়। এটি ভোটারদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিটি দলই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিএনপি দল র্যালি, মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলছে, আর জামায়াত-এ-ইসলামি দল দরজায় দরজা করে ভোটারদের মতামত সংগ্রহ করছে। প্রতিটি দলের স্বেচ্ছাসেবক দল সক্রিয়ভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, এই দুই প্রার্থীর পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং আসনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ার ফলে ভোটের গতিবিধি পরিবর্তিত হতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পর, নতুন প্রতিনিধি গ্যাস, পানি, ট্রাফিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কীভাবে পদক্ষেপ নেবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে স্থানীয় পরিষদ ও পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।



