মিরপুরে নির্বাচনী সময়ে পান ও সিগারেট বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকা গুজিয়ে দেওয়ার দৃশ্য ভিডিওতে ধরা পড়ে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, জামাতের সমর্থনে গণসংযোগের সময় ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বিক্রেতার সঙ্গে আলাপের পর নগদ অর্থ প্রদান করছেন। ঘটনাটি প্রকাশের পর তিনি জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়ে ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ করেন।
ভিডিওতে বিক্রেতা জানান, তার দিনটি বিক্রি কম হওয়ায় তিনি আর্থিক সমস্যায় আছেন। শাহরিয়ার কবির তখন ক্যামেরার সামনে মানবিক সহায়তা হিসেবে এক হাজার টাকা দান করেন এবং একই স্থানে শিশুরা খেলতে র্যাকেট কেনার জন্য কিছু অতিরিক্ত অর্থ গিফট করেন। তিনি মিডিয়াকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এই দানকে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে না দেখার অনুরোধ করেন।
শাহরিয়ার কবিরের ক্ষমা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি উল্লেখ করেন, যেখানে নির্বাচনের আগে প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা বা অনুদান প্রদান নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, এই বিধি অনুসারে তিনি কোনো চাঁদা বা অনুদান প্রদান করতে পারতেন না, তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
কবিরের সঙ্গে বিক্রেতার কথোপকথনে ধর্মীয় বিষয়ও উঠে আসে। বিক্রেতা রিজিকের মালিককে আল্লাহ বলে উত্তর দেন, এরপর কবির জিজ্ঞেস করেন, “যদি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ না থাকে, তবে আমাদের দেশের উন্নতি কীভাবে হবে?” বিক্রেতা একই উত্তর দেন। এই আলোচনার পর কবির বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার নোট গুজিয়ে দেন এবং বিদায় নেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিরোধী দলগুলো ভিডিওকে ভোটারকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশনের তদন্তের দাবি তীব্র করে। এছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে পূর্ববর্তী ঘটনায় অনুরূপ অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, কমিশন কীভাবে এই ঘটনার তদন্ত করবে এবং সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারণ করবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
শাহরিয়ার কবিরের এই কাজের ফলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রভাব পড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তিনি যদি কোনো লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রার্থী হিসেবে দায়িত্বশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং ভোটারদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, তার সমর্থকরা মানবিক সহায়তার দিকটি তুলে ধরে, এই দানকে ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য নয় বলে ব্যাখ্যা করছেন। তবে আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচনী সময়ে নগদ দান করা এখনও বিতর্কের বিষয়।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে শাস্তি হিসেবে প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল বা আর্থিক জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
জনমত গঠন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য, এই ধরনের ঘটনা দ্রুত ও ন্যায্যভাবে সমাধান করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।



