ফেনী শহরের খেজুরিয়া প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের সংবাদ সম্মেলনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী‑২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু স্পষ্টভাবে জানালেন, যদি আসন্ন গণভোটের রায় ‘হ্যাঁ’ হয় এবং জুলাই সনদ কার্যকর হয়, তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন আওয়ামী লীগ।
মঞ্জু উল্লেখ করেন, গণভোটের অনুমোদন হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনরুদ্ধার হবে এবং সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান শাসন দলই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। তিনি এ কথা বলেন, কারণ সনদে নির্ধারিত সংস্কারগুলো শাসন দলের নীতি ও কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক সময়ে ‘নো ভোট’ বা গণভোট বর্জনের প্রচার চালাচ্ছেন, তবে মঞ্জু তর্ক করেন, ইতিহাস দেখিয়েছে যে একবার সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে এলে তারা আবার রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় হতে পারবে। তিনি ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অশান্তি ও তার পরবর্তী দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনঃউদ্ভবের উদাহরণ তুলে ধরেন।
মঞ্জু জুলাই সনদকে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি কল্যাণের পথ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কারগুলো না বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে সব দলই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সনদ না কার্যকর হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হ্রাস পাবে, তা মঞ্জু সতর্ক করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সনদে নির্ধারিত শর্তগুলো না মানলে দেশের আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে।
মঞ্জু ভোটারদের কাছে আহ্বান জানান, কোনো দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য না রেখে, দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট দিতে। তিনি জোর দেন, ভোটের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর করে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।
মঞ্জু আরও বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করা হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কমে যাবে এবং একটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তি স্থাপন হবে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে সনদের গুরুত্বকে এক ধরনের সেতু হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা বিভিন্ন দলকে একত্রিত করতে পারে।
গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুটপাটের বিচার প্রসঙ্গে মঞ্জু উল্লেখ করেন, যে আওয়ামী লীগকে নিজের ঐতিহাসিক দায় থেকে মুক্তি পেতে এই অপরাধগুলোর ন্যায্য বিচার প্রয়োজন। তিনি তুলনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির মতো আরেকটি গণহত্যার দায় এখন দলটির ওপর চাপা রয়েছে।
এই দায়মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের পথে বাধা দূর হবে না, মঞ্জু বলেন। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে এই নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে বৃহত্তর ঐক্যের পথে এগোতে আহ্বান জানান।
স্থানীয় পর্যায়ে মঞ্জু ফেনী জেলার বর্তমান সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জানান, জেলা জুড়ে বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাংয়ের বৃদ্ধি, তীব্র গ্যাস সংকট এবং যানজটের মতো সমস্যাগুলো সমাধানে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বন্যা ও জলাবদ্ধতার মোকাবিলায় তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ সিস্টেমের সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। গ্যাং সমস্যার সমাধানে তিনি যুব কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
গ্যাস সংকটের সমাধানে মঞ্জু স্থানীয় গ্যাস সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা, যেমন সিএনজি ও পিএলজি সংযোগের পরিকল্পনা উল্লেখ করেন। যানজট কমাতে তিনি রোড নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের উন্নয়নের কথা বলেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য মঞ্জু নতুন স্কুল ও কলেজের নির্মাণ, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকীকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জোর দেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ফেনী জেলার সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
মঞ্জুর এই বিবৃতি গণভোটের ফলাফল ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নের ওপর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনরুদ্ধার হবে এবং তা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে।



