সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট দল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যখন দলের ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ জোহেইবকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রথম খেলায় অংশগ্রহণের আগে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। জোহেইবের এই প্রত্যাহার টুর্নামেন্টের সূচনার ঠিক আগে ঘটেছে। ফলে দলটি শীর্ষ ব্যাটসম্যানের অনুপস্থিতিতে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছে।
এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়েছে যে, জোহেইবের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের মতে, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের আচরণ দলের শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ডের বিপরীতে গিয়েছিল। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।
ইউএই দলটি মঙ্গলবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী গেম হিসেবে নির্ধারিত। জোহেইবের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দলটি আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে।
গত শুক্রবার দলটি ইতালির সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে 81 রানের মোট স্কোর তৈরি করে। এই পারফরম্যান্সে ব্যাটিং ইউনিটের সামগ্রিক শক্তি প্রকাশ পেয়েছে। তবে শীর্ষ ক্রমের একজন ব্যাটসম্যানের হারিয়ে যাওয়া এই অর্জনকে কিছুটা দুর্বল করেছে।
টপ অর্ডারের প্রধান খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি ব্যাটিং লাইনের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দেয়। কোচের মতে, মধ্যম ক্রমের ব্যাটসম্যানদেরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হবে। ফলে ম্যাচের সময় কৌশলগত সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
মুহাম্মদ জোহেইবকে গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ক্যাপ্টেন হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। 27 বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের নেতৃত্বে দলটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। তার ক্যাপ্টেনশিপের প্রথম দিনেই শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে।
জোহেইব এখন পর্যন্ত মোট ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। তার ক্যারিয়ারে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, যদিও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্যায়ে তার উপস্থিতি সীমিত ছিল। এই পরিসংখ্যান তাকে দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের তালিকায় স্থান দেয়।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্যায়ে জোহেইব দুইটি গেমে অংশ নিয়েছেন। এই দুই ম্যাচই টুর্নামেন্টের আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ফলে তার অংশগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে।
ক্যাপ্টেনের অনুপস্থিতি দলের মনোবল ও কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। কোচিং স্টাফ এখন ব্যাটিং অর্ডার পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্বের বিকল্প খুঁজে বের করার কাজ করছে। দলটি এখনও টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্য রাখে।
দলীয় মিটিংয়ে কোচ জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। শৃঙ্খলা ও একতা বজায় রাখাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নতুন ব্যাটসম্যানদেরকে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।
নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে জয়লাভ করা হলে দলটি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারবে। অন্যদিকে, শীর্ষ ব্যাটসম্যানের অভাবে স্কোরিংয়ে অতিরিক্ত চাপ দেখা দিতে পারে। তাই দলটি প্রতিটি ওভারে শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলতে চায়।
শৃঙ্খলাভঙ্গের ফলে জোহেইবের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট দল এখনও টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করবে। ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে নতুন কৌশল ও সমন্বয় দেখা যাবে। শেষ পর্যন্ত ফলাফলই সবকিছু নির্ধারণ করবে।



