ডন ৩ প্রকল্পের প্রধান অভিনেতা রানভীর সিংহের হঠাৎ প্রস্থান নিয়ে প্রযোজক গিল্ড অফ ইন্ডিয়া দুইটি গোপনীয় বৈঠক আয়োজন করে। প্রথম বৈঠকটি রানভীরের প্রস্থান ঘটার প্রায় এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হয়, আর দ্বিতীয়টি শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ল্যান্ডস এন্ডে পুনরায় গিল্ডের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সভা শিল্পের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয় এবং প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে প্রধান অভিনেতার প্রত্যাহার কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
আগস্ট ২০২৩-এ এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট ডন ৩-এর পুনরায় সূচনা ঘোষণা করে, রানভীর সিংহকে নতুন মুখ হিসেবে প্রকাশ করে। ঘোষণার সঙ্গে একটি চমকপ্রদ ভিডিও প্রকাশ পায়, যা ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত তৈরি করে এবং ২০২৬ সালে শ্যুটিং শুরু হওয়ার পরিকল্পনা জানায়। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই রানভীরের অপ্রত্যাশিত প্রস্থান সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, যা শিল্পের মধ্যে তীব্র আলোচনা উস্কে দেয়।
রানভীরের প্রস্থান সম্পর্কে জানার পর, এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের সহ-প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি এবং ফারহান আখতার দ্রুত গিল্ডের সহায়তা চেয়ে দুইটি বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রথম বৈঠকে সজ্জিদ নাদিয়াদওয়ালা সহ অন্যান্য সিনিয়র প্রযোজক উপস্থিত ছিলেন। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল রানভীরের প্রস্থান কীভাবে ঘটল এবং প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে বড় অর্থ বিনিয়োগের পর প্রকল্পের স্থিতি কীভাবে প্রভাবিত হয়, তা বিশ্লেষণ করা।
প্রথম বৈঠকের আলোচনায় রানভীরের প্রত্যাহারের পেছনের কারণগুলো স্পষ্ট করা হয়নি, বরং প্রযোজকরা কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতি কমাতে পারে, তা নিয়ে মনোযোগ দেয়া হয়। গিল্ডের সদস্যরা একে অপরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, প্রি‑প্রোডাকশন চুক্তিতে কী ধরণের শর্ত যুক্ত করা যেতে পারে, তা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
দ্বিতীয় বৈঠকে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে সালমান খান, সিদ্দার্থ রয় কাপুর, রমেশ তৌরানি এবং কুমার তৌরানি অন্তর্ভুক্ত। এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের প্রতিনিধিরা গিল্ডের সামনে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রযোজক হিসেবে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। বৈঠকের সময় রানভীরের দৃষ্টিকোণও বিবেচনা করা হয়, যাতে অভিনেতার দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো বোঝা যায়।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, কোনো একক ব্যক্তিকে দোষারোপের উদ্দেশ্য নয়, বরং পুরো শিল্পের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে প্রধান অভিনেতা হঠাৎ চলে গেলে প্রযোজকরা সুরক্ষিত থাকতে পারে। গিল্ডের সদস্যরা প্রি‑প্রোডাকশন চুক্তিতে আর্থিক জামানত, শর্তসাপেক্ষে পেমেন্ট এবং বিকল্প কাস্টিং পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া, অভিনেতার প্রত্যাহার ঘটলে পুনরায় শুটিং সময়সূচি ও বাজেট পুনর্গঠন করার জন্য স্পষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণের কথাও উঠে আসে।
বৈঠকের শেষে গিল্ডের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র চুক্তিগত শর্তে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিল্পের স্বচ্ছতা ও যোগাযোগের উন্নতিতে নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে প্রযোজক ও অভিনেতা উভয়েরই একে অপরের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ এড়ানো যায়।
ডন ৩ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এখনও অনিশ্চিত, তবে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন কাস্টিং নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে এবং শ্যুটিং পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হবে। গিল্ডের এই দুইটি বৈঠক শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দিকনির্দেশনা দেবে।
বৈঠকের আলোচনায় উল্লেখিত প্রস্তাবগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে আর্থিক ঝুঁকি কমবে এবং প্রযোজক ও অভিনেতা উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা পাবে। শিল্পের অভ্যন্তরে এই ধরনের কাঠামো গড়ে তোলার জন্য গিল্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
সামগ্রিকভাবে, রানভীর সিংহের প্রস্থান ডন ৩ প্রকল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে গিল্ডের উদ্যোগে দুইটি গোপন বৈঠক এই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পের সকল অংশীদারকে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।
এই ঘটনায় দেখা যায় যে, বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে প্রধান অভিনেতার প্রত্যাহার শুধু একক প্রকল্পকে নয়, পুরো শিল্পকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রযোজক গিল্ডের মতো সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণ শিল্পের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।



