24 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প প্রশাসন পল কাপুরকে মার্চে ঢাকা সফরের জন্য পাঠাবে

ট্রাম্প প্রশাসন পল কাপুরকে মার্চে ঢাকা সফরের জন্য পাঠাবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা‑ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করার পরিকল্পনা মার্কিন সরকার চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরকে ৬ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে ঢাকা সফরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত রবিবার বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পল কাপুরের পরিকল্পিত সফরের বিষয়টি তুলে ধরেন। দুজনের আলোচনায় দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়।

পল কাপুরের নাম প্রথমবারের মতো ফেব্রুয়ারি ২০২৩‑এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মনোনীত হন। পরবর্তীতে মার্কিন সেনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটি অনুমোদন দেয় এবং অক্টোবর মাসে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

সিনেটের শোনানিতে পল কাপুর উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বৃহত্তর ভূমিকা পালন করছে। তিনি যুক্তি দেন, যদি তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে মার্কিন নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, চীনের প্রভাব কমানো এবং বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি করার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবেন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও একই শোনানিতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঝুঁকি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক মিডিয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূ‑রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিশদে বলেছিলেন, এবং নতুন বা অন্তর্বর্তী সরকারকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, মার্কিন সেনেটে ‘থিংক টোয়াইস অ্যাক্ট’ পাস এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (NSS) ঘোষণার পর চীনের সঙ্গে দ্বৈত নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে পল কাপুরের ঢাকা সফর নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে মার্কিন সরকারের চীন‑নির্ভরতা বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান উপস্থাপন করার সুযোগ দেবে।

বাংলাদেশ সরকার এই সফরকে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের নতুন পর্যায় হিসেবে দেখছে। ঢাকা‑ওয়াশিংটন সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি বিবেচনা করে, উভয় পক্ষই নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

পল কাপুরের সফরে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গঠন এবং বাণিজ্যিক শর্তাবলী উন্নত করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।

মার্কিন সরকার পূর্বে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পল কাপুরের আসন্ন সফর এই নীতিগুলোর বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ সরকারও এই সুযোগে তার কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে চায়।

সফরের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো সম্ভাব্য চুক্তি ও সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য কাজ চালাবে। বিশেষ করে অবকাঠামো, জ্বালানি ও ডিজিটাল সেবা ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।

মার্কিন সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে দু’দেশের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পল কাপুরের ঢাকা সফর উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments