শৈলকুপা, ঝিনাইদহ – এক দশকের বেশি সময় মালয়েশিয়ায় কাজ করে স্বদেশে ফিরে আসা ৪৯ বছর বয়সী রাজ্জাক মোল্ল্যা গত ১ ফেব্রুয়ারি সকালেই বাড়ির পাশে পেঁয়াজের ক্ষেত দেখতে গিয়ে ফিরে আসেননি। তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের অনুসন্ধানেও কোনো হদিস না পাওয়ায় শৈলকুপা থানায় ৪ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজের ডায়েরি দাখিল করা হয়।
রাজ্জাকের পরিবার জানায়, তিনি ১০ বছর আগে মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে একটি এসিড কারখানায় ড্রাম পরিষ্কারের কাজ করতেন। দশ বছর পর, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর, তিনি ছুটির টিকিট নিয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন এবং শৈলকুপা গ্রাম, বারইহুদা গ্রামের নিজের বাড়িতে বসতি স্থাপন করেন। বাড়ি ফেরার প্রায় দেড় মাস পর, ১ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি পেঁয়াজের ক্ষেতের দিকে গিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফিরে আসেন। আবার ক্ষেতের দিকে ফিরে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরতে দেখা যায়নি।
পরিবারের মতে, রাজ্জাকের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের ইতিহাস নেই। তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের সঙ্গে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে এবং তারা সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছে। মমতাজ বেগম জানান, ঘটনাস্থলে তিনি এবং স্বামী একসঙ্গে ক্ষেতের দিকে গিয়েছিলেন, তবে স্বামী একা ফিরে না আসায় তিনি তৎক্ষণাৎ আশেপাশের লোকজনকে জানিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।
নিখোঁজের পরপরই রাজ্জাকের ভাই রাজু আহমেদ শৈলকুপা থানায় ডায়েরি দাখিল করেন। থানার জিডি অনুযায়ী, পরিবার এবং গ্রামবাসীরা নিখোঁজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এমন এক নারী এবং স্থানীয় একটি চক্রের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার বা অনুসন্ধানমূলক পদক্ষেপ প্রকাশিত হয়নি।
রাজ্জাকের চাচাতো ভাই বাবলু মোল্ল্যা, যিনি নিজেও ১৮ বছর মালয়েশিয়ায় ছিলেন, জানান, “রাজ্জাকের কাজের ধরন ও স্বভাবের কারণে তিনি কখনো কোনো সমস্যায় জড়িয়ে পড়েননি। হঠাৎ এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়া আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ না পেলে পরিবারের আশা ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে।”
স্থানীয় গ্রামবাসীরাও নিখোঁজের ঘটনার পর দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে শৈলকুপা থানার কর্মকর্তাদের জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, রাজ্জাকের ফিরে আসার পরপরই ঘটনার ঘটনার সময়ের আশেপাশে কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষেতের আশেপাশে কিছু অজানা গতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
পুলিশের বর্তমান অবস্থান অনুসারে, নিখোঁজের সময়কাল এবং ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরিবার ও গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, তারা সকল প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে রাজ্জাকের নিরাপদ ফিরে আসা নিশ্চিত করতে চায়।
রাজ্জাকের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এমন কোনো ব্যক্তির সনাক্তকরণে সহায়তা চেয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। একই সঙ্গে, তারা সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় নেটওয়ার্কে তথ্য শেয়ার করে সম্ভাব্য সূত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শৈলকুপা থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডায়েরি দাখিলের পর থেকে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার ও ক্ষেত্র পরিদর্শন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সকল সম্ভাব্য দিক থেকে তদন্ত করা হবে এবং কোনো অগ্রগতি হলে দ্রুত জানানো হবে।
এই সময়ে, রাজ্জাকের পরিবার এবং গ্রামবাসীরা তার নিরাপদ ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানাচ্ছে।



