আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেছে যে আসন্ন টি‑২০ বিশ্বকাপের সব পাকিস্তান ম্যাচ, ফাইনালসহ, শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান মূল হোস্ট হলেও শেষ মুহূর্তে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও দলীয় পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে থাকবে, যা এই সংস্করণে টানা বারোতমবার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে।
গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও হোস্ট দেশ হিসেবে পাকিস্তান নাম ছিল। এই ধরনের স্থানান্তর এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বড় টুর্নামেন্টের আয়োজনের ক্ষমতা নিয়ে আইসিসির ওপর প্রশ্ন তুলতে থাকে।
আইসিসি সম্প্রতি জানিয়েছে যে তার টুর্নামেন্টগুলোকে খেলাধুলার সততা, প্রতিযোগিতা, ধারাবাহিকতা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা উচিত, এবং বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া এই নীতিগুলোকে ক্ষুণ্ন করছে। এই মন্তব্যগুলোকে কিছু বিশ্লেষক ব্যঙ্গাত্মক নাটকের সংলাপের মতো উল্লেখ করেছেন, তবে আইসিসি নিজেই এই উদ্বেগগুলো স্বীকার করেছে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রভাব এখনো অস্বীকার করা যায় না। কাতার বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা টুর্নামেন্ট এবং ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে নির্ধারিত ফুটবল বিশ্বকাপের মতোই, ক্রিকেটেও হোস্ট দেশ ও ম্যাচের স্থান নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট। তবে ফুটবলে এমন জটিলতা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।
আইসিসির ড্র প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। যদিও সংস্থা ‘খেলোয়াড়সুলভ ন্যায়নীতি’ বজায় রাখার কথা বলে, বাস্তবে ড্র এমনভাবে গঠন করা হয় যে ভারত ও পাকিস্তান সবসময় একই গ্রুপে থাকে। এই সংস্করণে টানা বারোতমবার দুই দল একসাথে গ্রুপে রয়েছে, যা অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের স্বচ্ছ ড্র পদ্ধতির থেকে আলাদা।
টেলিভিশন সম্প্রচার অধিকারও এই টুর্নামেন্টের আর্থিক দিককে প্রভাবিত করছে। জিওস্টার ভারতীয় সম্প্রচার অধিকার অর্জনে ২০২৪‑২০২৭ চক্রে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার প্রদান করবে, যা আইসিসির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান। অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, আইসিসির মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশই এই ধরনের অধিকার থেকে আসে।
পাকিস্তানকে হোস্ট দেশ হিসেবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের স্থানান্তরের ১৮ ঘণ্টা আগে করা হয়। যদি পাকিস্তান এই অনুরোধে সাড়া না দেয়, তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভারত‑পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা হোস্ট হিসেবে নতুন লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, আর ভারত‑পাকিস্তান গ্রুপের ম্যাচগুলো দর্শকদের জন্য প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবে। ভবিষ্যতে আইসিসি কীভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজনে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখবে, তা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগতের নজরে থাকবে।



