২০ দিনের তীব্র প্রচারাভিযান শেষ হয়ে আজ সকাল ৭:৩০ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের ১২.৭৬ কোটি ভোটারদের সামনে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
প্রচার শুরু হয়েছিল ২২ জানুয়ারি, তখন থেকে বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি), ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপ) ও অন্যান্য দল ও স্বাধীন প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে র্যালি, রাস্তার সভা এবং দরজায় দরজা ক্যাম্পেইন চালিয়ে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নেতারা শব্দের যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন এবং সামাজিক মাধ্যমকে মূল সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করে সমর্থকদের আকৃষ্ট ও রাজনৈতিক বর্ণনা গঠন করেছেন। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় থেকে গ্রামাঞ্চলের কোণায় পর্যন্ত শেষ দিনের প্রচারকে এক ধরনের রাজনৈতিক উৎসবের রূপে উপস্থাপন করা যায়।
গাইবান্ধা-১ নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টি (জি.এম. কুয়েদার নেতৃত্বে) প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটওয়ারি রিকশা চালককে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। এ ধরনের সরল যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের উপস্থিতি ও প্রতিশ্রুতি প্রকাশের চেষ্টা করেছে।
প্রচার শেষের দিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ একই সময়ে দেশের নাগরিকরা জুলাই জাতীয় চার্টার সম্পর্কিত জাতীয় রেফারেন্ডে অংশগ্রহণ করবে। এই চার্টারটি সংবিধান ও প্রতিষ্ঠানগত সংস্কারের একটি সমগ্র প্যাকেজ উপস্থাপন করে, যা ভোটের পর সরকারী নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি প্রচারকালে ‘ন্যায়সঙ্গত ও জবাবদিহি সম্পন্ন রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সরাসরি জনগণের কাছে দায়িত্বশীল হবে। দলটি পেডি শস্যের প্রতীক নিয়ে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছে এবং নির্বাচন সংস্কার, দুর্নীতি হ্রাস এবং বৈষম্যমুক্ত সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জামায়াত‑ই‑ইসলাম ‘ইনসাফ’ ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার কথা ঘোষণা করেছে এবং ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুর্নীতি, শোষণ ও জবরদস্তি থেকে মুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি, যা সরাসরি ছাত্র আন্দোলন থেকে উদ্ভূত, তার নিজস্ব নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে, যদিও বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
প্রচারের শেষ পর্যায়ে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে; দলগুলো টুইটার, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে রিয়েল‑টাইম আপডেট শেয়ার করে সমর্থকদের সক্রিয় রাখে। একই সঙ্গে, ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনী কমিশন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
বছর আগে ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিশাল প্রতিবাদে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার পতিত হওয়ার পর, এই নির্বাচনকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটারদের প্রত্যাশা নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার দিকে কেন্দ্রীভূত।
ভোটের দুই দিন আগে দেশব্যাপী উত্তেজনা বাড়ছে; বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের শেষ বার্তা প্রদান করছে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। ভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের পাশাপাশি, রেফারেন্ডে গৃহীত চার্টার সংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
এই নির্বাচন ও রেফারেন্ডের ফলাফল পরবর্তী সরকারের গঠন, নীতি নির্ধারণ এবং দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হলে, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।



